
একদিকে বাড়তে থাকা বেকারত্ব, অন্যদিকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো অসংখ্য বিদেশি গৃহহীন মানুষ এই দুই সংকট এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ইতালির ভেনিসের রাজনৈতিক অঙ্গনে। সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থানের চাপ শহরটির স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের ৭ মার্চ ভেনিসের ঐতিহাসিক ‘জিয়ারদিনি রিয়ালি’তে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন সেন্টার-রাইট জোটের মেয়র প্রার্থী সিমোন ভেনতুরিনি। ৩৮ বছর বয়সী ভেনতুরিনি নির্বাচিত হলে ভেনিসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন ‘হলুদ’ রং।
দীর্ঘদিন ধরে ভেনিসের পর্যটন ও সামাজিক সংহতি বিষয়ক দায়িত্ব পালন করা ভেনতুরিনিকে বর্তমান মেয়র লুইজি ব্রুগনারোর রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রুগনারো একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন, “ভেনতুরিনিই আমার যোগ্য উত্তরসূরি।” এমনকি তিনি প্রথম দফাতেই ভেনতুরিনির জয় পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।
নির্বাচনী সমীকরণে ভেনতুরিনিকে সমর্থন দিচ্ছে ইতালির প্রভাবশালী রাজনৈতিক জোট লেগা, ফ্রাতেলি দ’ইতালিয়া, ফোরজা ইতালিয়া এবং তার নিজস্ব নাগরিক তালিকা। অন্যদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামনে রয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির (PD) সিনেটর আন্দ্রেয়া মার্টেলা।
ভেনিসের ২০২৬ সালের নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মেস্ত্রে ও মারঘেরা এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা এখন গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, শুধু মেস্ত্রেতেই প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন, যাদের একটি বড় অংশ ইতালির নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে সামনে আনছেন অতিরিক্ত পর্যটন নিয়ন্ত্রণে এন্ট্রি ফি বা টিকেট ব্যবস্থা কার্যকর করা, মেস্ত্রে ও ভেনিসে নিরাপত্তা জোরদার, স্থানীয়দের আবাসন সংকট সমাধান এবং পোর্টো মারঘেরার শিল্প ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।
তবে সবচেয়ে বড় বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বিদেশি শ্রমিক ও গৃহহীনদের ভবিষ্যৎ। বর্তমান শ্রম ও সামাজিক কল্যাণ কমিশনার সিমোন ভেনতুরিনি দাবি করছেন, শহরের খালি ভবন সংস্কার করে গৃহহীনদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সমালোচকদের মতে, বাস্তবে পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।
বিশেষ করে বিদেশি নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থান ও স্থায়ী আবাসনের অভাব ভেনিসের সামাজিক ভারসাম্যের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এখন প্রয়োজন বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
২০২৬ সালের নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ভেনিসের রাজনৈতিক অঙ্গনে ততই বাড়ছে উত্তাপ ও জনমতের লড়াই। এখন দেখার বিষয়, সিমোন ভেনতুরিনি কি সত্যিই বেকারত্ব, আবাসন সংকট ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, নাকি তার প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী বক্তৃতাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।