পার্বত্য জেলার বান্দরবানের জনবহুল ও জনগুরুত্বপূর্ণ লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বর্তমান ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জোর দাবি জানিয়েছেন লামা উপজেলার পাহাড়ি বাঙালী জনগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি, চিকিৎসক সংকট নিরসন, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং আবাসিক কোয়ার্টার সংস্কার করা না হলে এলাকার প্রায় দুই লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তা শনিবার ১৬ মে সকালবেলায় স্থানীয় সূত্রে জানায়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। এছাড়াও ১০০ থেকে ২০০ জন রোগী জরুরি বিভাগ ও আবাসিক ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। সীমিত শয্যা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণে অনেক সময় রোগীদের মেঝেতে কিংবা বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুধু লামা উপজেলা নয়, পাশ্ববর্তী আলীকদম উপজেলা এবং চকরিয়া উপজেলা এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়নের রোগীরাও চিকিৎসার জন্য লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। বিশেষ করে চকরিয়ার বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন ও আলীকদম উপজেলার চৈক্ষং ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ এই হাসপাতালের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে গিয়ে প্রায়ই ঔষধ সংকট ও শয্যা সংকট দেখা দেয়।
হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকেরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটিকে দ্রুত ১০০ শয্যায় উন্নীত করা অত্যন্ত জরুরি। একইসাথে প্রয়োজন নতুন ভবন নির্মাণ, আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ।
চিকিৎসক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অনেক ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন সংকট তৈরি হচ্ছে, যা চিকিৎসাসেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দ্রুত এসব কোয়ার্টার সংস্কারেরও দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় পাহাড়ি বাঙালী জনগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ বলেন, “লামা উপজেলা ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তীর্ণ এলাকা। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে হলে বর্তমান ৫০ শয্যার হাসপাতাল দিয়ে কোনোভাবেই চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে হবে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প নেই। তাই মানবিক বিবেচনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করে আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
/এনইউআ