বাংলাদেশে কম খরচে কেনাকাটার ধারণাটি বরাবরই সময় বা উপলক্ষের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সঠিক সেলের জন্য অপেক্ষা করা, বড় ক্যাম্পেইনের সময় প্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ করা, কিংবা বিশেষ অফারকে ঘিরে খরচের পরিকল্পনা করা, সবমিলিয়ে অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই স্মার্ট শপিংয়ের এটাই ছিল দীর্ঘদিনের পরিচিত ধারা।
কিন্তু পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা তো আর কোনো ক্যাম্পেইনের ক্যালেন্ডার মেনে চলে না। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার ফুরিয়ে যেতে পারে, মাস শেষ হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যেতে পারে ডিটারজেন্ট বা ক্লিনিং সাপ্লাই, আর জরুরি দরকারের পণ্যগুলো পরবর্তী মাসের ফ্ল্যাশ সেলের জন্যও পথ চেয়ে থাকে না। দাম কমার সময় এবং প্রয়োজনের মুহূর্তের এই ব্যবধান বহু বছর ধরেই সংসারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। অনেক ক্ষেত্রেই ক্রেতারা বাধ্য হয়েছেন মিতব্যয়িতা এবং সুবিধার মধ্যে একটি বেছে নিতে।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে দারাজ একটি দ্বিমুখী পরিকল্পনা তৈরি করেছে। একদিকে বড় সওদার জন্য মেগা ক্যাম্পেইনের আকর্ষণ বজায় রাখা, অন্যদিকে নিত্যদিনের সামগ্রীকে সারা বছরজুড়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী রাখা। ডাবল ডিজিট ক্যাম্পেইন এবং দারাজ চয়েসের“এভরিডে লো প্রাইস” বা ইডিএলপি মডেল, এই দুই উদ্যোগ মূলত একই কৌশলের দুটি দিক। ই-কমার্স কীভাবে বিভিন্ন আয়ের মানুষের ভিন্নধর্মী কেনাকাটার চাহিqদা পূরণ করতে পারে, সেটিই এর মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
চলমান ৫.৫ মেগা ঈদ সেল, যা আগামী ২৬ মে পর্যন্ত চলবে, উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটায় আগ্রহী গ্রাহকদের জন্য নিয়ে এসেছে প্রত্যাশিত সব সুবিধা। মেগা ডিলস ও ফ্ল্যাশ সেলে থাকছে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়, হট ডিলসে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়, এবং নির্বাচিত পণ্যে ফ্রি ডেলিভারি। ফ্যাশন, ইলেকট্রনিক্স, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, হেলথ অ্যান্ড বিউটি এবং লাইফস্টাইল ক্যাটাগরিতে থাকছে অথেনটিক পণ্যএবং এসব অফার। এবারের ক্যাম্পেইনে রয়েছে বিশেষ গিভঅ্যাওয়ে, যেখানে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ক্রেতারা গরু ও ছাগল জিতে নিতে পারেন। এ ধরনের আয়োজনে আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে সুবিধা হয়। এছাড়াও অনেকদিন ধরে পিছিয়ে রাখা বড় কেনাকাটাগুলো সহজে সেরে নেওয়া যায়।
তবে ক্যাম্পেইন আসে এবং শেষ হয়ে যায়। কিন্তু দৈনন্দিন জীবন এবং নিয়মিত খরচাপাতি চলতেই থাকে। আর এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এভরিডে লো প্রাইস মডেল। সীমিত সময়ের মধ্যে সকল ছাড় এক জায়গায় জড়ো করার পরিবর্তে, ইডিএলপি মাসজুড়ে এবং সারা বছর ধরে নিয়মিত কেনা হয় এমন প্রয়োজনীয় পণ্যে ধারাবাহিকভাবে কম দাম রাখে। রান্নার তেল, ডিটারজেন্ট, ব্যক্তিগত পরিচর্যার সামগ্রী, মুদি দোকানের জিনিসপত্র এবং এফএমসিজি পণ্যগুলো দারাজ চয়েস চ্যানেলে সুলভ ও স্থিতিশীল দামের তালিকায় রাখা হয়েছে।
এই মডেলের মাধ্যমে কেনাকাটা হয় আরও বুদ্ধিদীপ্ত। কেননা ইডিএলপি থেকে তিনটি পণ্য কিনলেই পাওয়া যায় ফ্রি ডেলিভারি। পাঁচটি পণ্য কিনলে, স্টক থাকা সাপেক্ষে যুক্ত হয় একটি ফ্রি গিফট। এছাড়া নির্ধারিত ন্যূনতম অর্ডার এবং সেইসাথে নির্দিষ্ট পেমেন্ট পদ্ধতি নির্বাচন করলে পাওয়া যায় অতিরিক্ত ভাউচার সুবিধা। এসব সুবিধা একসঙ্গে বেশি কেনাকাটাকে উৎসাহিত করে, ডেলিভারির সংখ্যা ও খরচ কমায় এবং পারিবারিক বাজেটকে আরও দারুণভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে। সব পণ্যই সরাসরি দারাজের নিজস্ব ওয়্যারহাউজ থেকে পাঠানো হয়, ফলে দ্রুত ডিসপ্যাচ এবং নির্ভরযোগ্য ডেলিভারি নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা করতে হয় না।
এই দ্বিমুখী কৌশলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর বৈচিত্র্যময়তা। যাদের বাজেট বেশি, তারা বড় কেনাকাটার জন্য ক্যাম্পেইনের সময়কে কাজে লাগাতে পারেন এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনের জন্য ইডিএলপির উপর নির্ভর করতে পারেন। অন্যদিকে স্বল্প আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে, যাদের সামর্থ্য হয়তো বড় বড় সেলের সময় একসঙ্গে অনেক পণ্য কেনার জন্য উপযোগী নয়, তারা সারা বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে সাশ্রয়ী দামে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। উভয় ক্ষেত্রেই সুবিধা পাওয়া যায়, তবে প্রত্যেকের আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।
বিশেষ করে ঈদ-উল-আযহার সময় এই বহুমাত্রিক সাশ্রয়ের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নতুন পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি এবং উপহারসামগ্রীর মাধ্যমে ৫.৫ ক্যাম্পেইন ঈদকে আরও উৎসবমুখর করে তোলে। অন্যদিকে ইডিএলপি পূরণ করে ক্রেতাদের ঈদ প্রস্তুতির মৌলিক ও প্রয়োজনীয় দিকগুলো। এর মধ্যে মাংসের বিভিন্ন পদ রান্নার জন্য তেল, ঘর পরিষ্কারের জন্য ডিটারজেন্ট, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে মাংস বিতরণের জন্য প্লাস্টিক ব্যাগ, কিংবা কোরবানির দিনের জন্য প্রয়োজনীয় বালতি ইত্যাদি সবকিছুই রয়েছে। এর মধ্যে একটি উদযাপনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, অন্যটি প্রস্তুতিকে সহজ করার জন্য।
বাংলাদেশের ই-কমার্স ইকোসিস্টেম যত পাকাপোক্ত হচ্ছে, প্ল্যাটফর্মগুলো ততই বুঝতে পারছে যে সাশ্রয় সবার জন্য একইরকম নয়। কিছু কেনাকাটার জন্য অপেক্ষা করা যায়, কিছু পণ্য তাৎক্ষণিকভাবে কিনে ফেলতে হয়। তাই কেউ কেউ বিভিন্ন ক্যাম্পেইনকে কেন্দ্র করে কেনাকাটার পরিকল্পনা করেন, আবার কেউ নিয়মিতভাবে স্থিতিশীল দামের উপর নির্ভর করেন। চ্যালেঞ্জ হলো, সবাইকে একই কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এই দুই ধরনের চাহিদাই সমানভাবে পূরণ করা।
দারাজের সমাধান হলো, দুই ধরনের সুযোগই একইসঙ্গে দেওয়া। তাই দারাজের সকল ক্যাম্পেইন ডে রয়ে গেছে পরিকল্পিত এবং বড় পরিসরের সাশ্রয়ের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে। আর ইডিএলপি তৈরি করেছে নিয়মিত প্রয়োজনের জন্য একটি স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য বিকল্প। একসঙ্গে এই দুটি ব্যবস্থা বিভিন্ন আয়ের মানুষ, ভিন্ন কেনাকাটার অভ্যাস এবং সাশ্রয়ের ভিন্ন সংজ্ঞাকে সমানভাবে গুরুত্ব দেয়।
মেগা ক্যাম্পেইনের মূল্যছাড় এবং সারা বছরজুড়ে সাশ্রয়ী দামের প্রয়োজনীয় পণ্য, এই দুই কৌশলের সমন্বয়ে দারাজ বিভিন্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ও লাইফস্টাইল পণ্যকে আরও সহজলভ্য করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। উৎসব আনন্দের এই মৌসুমে সকলেই বাড়তি খরচ বাঁচিয়ে তালিকার সবগুলো পণ্য কিনে পরিপূর্ণ একটি প্রস্তুতি নিতে চায়। তাই এভরিডে লো প্রাইস ও ৫.৫ মেগা ঈদ সেলের এই ভারসাম্য দারাজকে শুধু একটি ক্যাম্পেইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং প্রতিদিনের গৃহস্থালির ভরসার নিত্যসঙ্গী হিসেবে গড়ে তুলেছে। তাই ক্রেতাদের কাছে দারাজ মানেই এখন সাশ্রয় ও স্বস্তি।