পাইকারি পর্যায়ে ঘাটতি কমাতে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। বুধবার (২০ মে) রাজধানীতে আয়োজিত এক গণশুনানিতে এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদ্যুতের গড় পাইকারি দাম ৮ টাকা ২৪ পয়সা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৫৪ পয়সা হতে পারে। বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৭ টাকা ০৪ পয়সা।
গণশুনানিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা এবং আগামী অর্থবছরে ৬৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হতে পারে। এই অবস্থায় দাম না বাড়ালে বিদ্যুৎ খাত বড় ঝুঁকিতে পড়বে বলে সতর্ক করা হয়।
এছাড়া উচ্চ ভোল্টেজের কিছু গ্রাহককে একত্রে এনে খরচ কমানো এবং ভর্তুকির চাপ সামাল দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনসহ অংশীজনরা। তাদের মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে এবং শিল্পখাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে দেশ।
তারা আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও সিস্টেম লসের দায় গ্রাহকদের ওপর চাপানো হচ্ছে। তাই দাম বাড়ানোর পরিবর্তে কমানোর দাবি জানান অংশীজনরা।
এদিকে, বিদ্যুতের সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিস্টেম লস ও উৎস কর কমানোর মাধ্যমে ভর্তুকির চাপ কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল।
গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার গণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সালাউদ্দিন/সাএ