গাজীপুরের কালীগঞ্জে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রী এবং কর্মজীবী নারীদের যাতায়াতের পথে প্যান্ট খুলে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও ইভটিজিং করার অভিযোগে মফিজ উদ্দিন (৩৫) নামের এক বখাটেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার (২০ মে) বিকেলে উপজেলার মুনশুরপুর গ্রামের মনসাতলা এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
আটককৃত মফিজ উদ্দিন উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ভাটিরা গ্রামের আফসার উদ্দিনের পুত্র।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, মুনশুরপুর গ্রামের মনসাতলা এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় স্কুল, কলেজ, বাজার এবং বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরিগামী শত শত নারী ও শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন। গত কয়েকদিন ধরে মফিজ উদ্দিন ওই এলাকায় ওত পেতে থাকতো। যখনই কোনো ছাত্রী বা নারী একা ওই পথ দিয়ে যেতেন, তখনই সে তাদের সামনে প্যান্ট খুলে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতো এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে ইভটিজিং করতো। তার এমন বিকৃত আচরণের কারণে ওই এলাকার নারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অস্বস্তি বিরাজ করছিল।
ভুক্তভোগী এক কলেজ ছাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত তিন-চার দিন ধরে এই লোকটা একই কাজ করে আসছিল। আমরা ভয়ে ওই রাস্তা দিয়ে যেতে পারতাম না। আজ আবারও একই কাজ করার সময় আশেপাশের লোকজন টের পেয়ে তাকে ধরে ফেলে।”
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, মফিজের এই অসভ্যতা সীমালঙ্ঘন করেছিল। বুধবার বিকেলে সে আবারও এক নারীর সামনে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করলে স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দেয় এবং পরে থানা পুলিশকে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মুনশুরপুর এলাকায় ইভটিজিং ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির দায়ে একজনকে আটকের খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম পাঠিয়ে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। জননিরাপত্তা ও নারীদের যাতায়াতে বাধা সৃষ্টিকারী যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।”
বখাটে মফিজের এই আটকের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন হীন কাজ করার সাহস না পায়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মফিজ উদ্দিন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।