বাংলাদেশে কুরবানীকেন্দ্রিক অর্থনীতির বাজার এখন এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি বলেন, ধর্মীয় ইবাদতের পাশাপাশি কুরবানী দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছর ধরে দেশে প্রতি কুরবানীতে এক কোটিরও বেশি পশু জবাই হচ্ছে। এসব পশুর বড় অংশ উৎপাদন করছে দেশের প্রায় ১৭ লাখ ছোট-বড় খামার। আর এসব খামারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন প্রায় এক কোটি মানুষ। ফলে কুরবানীর ঈদ এখন গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম মৌসুমি চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, একসময় কুরবানীর বাজার শুধু পশু কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে এর সঙ্গে পরিবহন, পশুখাদ্য, চামড়া শিল্প, মসলা ব্যবসা, কামারশিল্প, ই-কমার্স, ফ্রিজিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন কুরবানী সেবা এবং মৌসুমি শ্রমবাজারের বিশাল কার্যক্রম যুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু খামারিরাই নন, দেশের বিপুলসংখ্যক কৃষকও সারা বছর গরু-ছাগল লালন-পালন করেন কুরবানীর হাটে বিক্রির আশায়। অনেকের জন্য এটি বছরের প্রধান আয়ের উৎস। পশু বিক্রির অর্থ দিয়ে কেউ মেয়ের বিয়ে দেন, কেউ ঘরের মেরামত করেন, আবার কেউ পরিবারের চিকিৎসার ব্যয় বহন করেন।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, একসময় পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আসা পশুর ওপর নির্ভরশীল ছিল দেশের কুরবানীর বাজার। তবে দেশীয় খামারি ও কৃষকদের প্রচেষ্টায় বর্তমানে দেশের উৎপাদিত পশুতেই কুরবানীর চাহিদা পূরণ হচ্ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ গরুর মাংস রপ্তানির সক্ষমতাও অর্জন করতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
কুরবানীর সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এটি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আমিষ ও খাদ্যচাহিদা পূরণেও বড় ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যে কৃষক কুরবানীর হাটে গরু বিক্রি করেন, ঈদের দিন সেই কৃষকের ঘরেও পৌঁছে যায় কুরবানীর গোশত।
এদিকে কুরবানীকে কেন্দ্র করে কিছু মৌসুমি পশুপ্রেমীর সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কুরবানী শুধু ধর্মীয় অনুশীলনই নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি বৃহৎ সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম।