ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে কথিত পুশ-ইনের চেষ্টার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে তিনি যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
তবে, গত দুইদিন ধরে যেসমস্ত নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা করেছিল ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা, তাদের গতরাতেই তারকাঁটা বেড়ার অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এনসিপির নেতারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে সাদিপুর-রঘুনাথপুর সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ কয়েকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে সীমান্তে যান নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী।
পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, “রাতের অন্ধকারে ভারতীয় বিএসএফ ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা চালাচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের কার্যক্রম মেনে নেওয়া হবে না। যদি তারা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের ফেরত পাঠাতে হবে।” তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমান্তে পুশ-ইন প্রতিরোধে কার্যকর ও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। “আগেই যদি সরকার যথাযথ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করত, তাহলে ভারত এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার সাহস পেত না,” বলেন তিনি।
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী আরও বলেন, “বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হতে হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।” সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিএসএফের হাতে সীমান্তে যে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে, সেগুলোর বিচার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দাবি করতে হবে। প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করা উচিত।” সীমান্তবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিএসএফ যদি গোপনে পুশ-ইনের চেষ্টা করে, তাহলে স্থানীয় জনগণ বিজিবিকে সহযোগিতা করবেন। সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে এনসিপির এ নেতা বলেন, “সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ এখনও অপর্যাপ্ত। এখানে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।” বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত বিজিবিকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সদস্যদের বেতন-ভাতাসহ সার্বিক সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, ১৯৯০-এর গণআন্দোলনে স্বৈরাচার পতন ঘটিয়েছি এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথ তৈরি হয়েছে। দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
পরিদর্শনকালে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পুশ-ইন সংক্রান্ত বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের ‘দিল্লি না ঢাকা, ক্ষমতা না জনতা’ স্লোগান দিতেও দেখা যায়। সীমান্ত পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ, যশোর জেলা সমন্বয়ক, বেনাপোল পোর্ট থানা জামায়াতের আমির রেজাউল ইসলাম, সেক্রেটারি ইউসুফ আলী, ছাত্রশক্তির নেতা খান মিফতাহুল মোস্তাফিজ অমিত, তাসকিন আহমেদ তাজিম, যুবশক্তির নেতা রুপম আহসান অর্ণবসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
পরিদর্শন শেষে দুপুর দেড়টার দিকে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বেনাপোল ত্যাগ করেন।