পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত শনিবার বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি প্রশাসনিক প্রভাব ও রাজনৈতিক শক্তি প্রসঙ্গে বেশ কিছু মন্তব্য করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ভাইরাল ভিডিওতে শফিকুল ইসলাম মাসুদকে বলতে শোনা যায়, তিনি অল্প সময়ের মধ্যে একজন ওসিকে বদলি করিয়েছেন এবং সেনাবাহিনীর একজন মেজরকে স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে শুধু ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নন, বরং ‘ক্ষমতার এমপি’ বলেও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ক্ষমতার চেয়ে জনগণের শক্তিই বড় এবং সেই শক্তির প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তিনি নিজের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, তার রাজনৈতিক পরিচিতি ও ভূমিকা সম্পর্কে নতুন করে কাউকে জানাতে হবে না। তিনি অতীতের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে সমালোচকদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তাও দেন।
বাউফলের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন জনগণের আস্থা ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। তার মতে, মানুষের মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন টেকসই জনসমর্থন তৈরি করতে পারে না। তিনি গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানকে এ বাস্তবতার একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে, সোমবার (১ জুন) বিকেলে ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি দাবি করেন, তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও অশালীন প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচারের প্রতিক্রিয়াতেই তিনি কিছু কঠোর মন্তব্য করেছিলেন বলে জানান।
তিনি বলেন, “আমার মরহুম বাবা, শ্বশুর এবং স্ত্রীকে নিয়ে যেভাবে অসত্য ও আপত্তিকর বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে, তা মেনে নেওয়া কঠিন। মূলত যারা এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের উদ্দেশেই আমি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি। তবে আমার বক্তব্যের অনেক ইতিবাচক ও গঠনমূলক অংশ প্রচার করা হচ্ছে না।”
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।