সংগৃহীত ছবি
জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে পণ্য আমদানি বন্ধ করার নিয়ম অনেক দেশ ঠিকভাবে মানছে না বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ কারণে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) বাংলাদেশসহ মোট ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থাৎ যারা এই নিয়ম ঠিকভাবে মানছে না, তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র চাপ বা শাস্তিমূলক বাণিজ্য পদক্ষেপ নিতে চাইছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) এ সংক্রান্ত একটি বিৃবতি জারি করেছে ইউএসটিআর।
বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে বলছে, ৬০টি দেশের কিছু নীতি ও কাজ যুক্তরাষ্ট্রের মতে ঠিক নয়।
তাদের অভিযোগ, এসব দেশের নীতি ‘অযৌক্তিক’ এবং এগুলো মার্কিন বাণিজ্যের জন্য বাধা তৈরি করছে। এই কারণেই ওয়াশিংটন বলছে, ওই দেশগুলোর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়া তাদের আইন অনুযায়ী বৈধ ও প্রয়োজনীয় হতে পারে।
ইউএসটিআর-এর মতে, জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধ করার নিয়ম ঠিকভাবে না মানার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ৬০টি দেশের একটি তালিকা করেছে।
অর্থাৎ এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমের পণ্য আমদানি ঠেকাতে যথেষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
এই তালিকায় বাংলাদেশও আছে। পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, চীন, শ্রীলঙ্কা, তাইওয়ান, ওমান, জাপান, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল, জর্ডান, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও অনেক দেশ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য অংশীদাররা যথেষ্ট কাজ করছে না; এটা গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে আমেরিকান শ্রমিকদের বিশ্ববাজারে অন্যায্য প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে, যেখানে তারা সমান সুযোগ ছাড়াই লড়তে বাধ্য হচ্ছে।
এর আগে, গত ১২ মার্চ ইউএসটিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(বি) ধারা অনুযায়ী নতুন এ তদন্ত করা হবে।
এতে দেখা হবে, জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারে উৎপন্ন পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন, নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ কতটা যুক্তিযুক্ত বা বৈষম্যমূলক।
একই সঙ্গে যাচাই করা হবে, এসব নীতি বা অনুশীলন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর কোনো ধরনের বোঝা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে কি না।