ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সীমিত স্থল সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন—এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন নয়, বরং বিশেষ বাহিনী ও সাধারণ পদাতিক সেনাদের অংশগ্রহণে সীমিত আকারের অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব অভিযানের মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায় হামলার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
তবে এসব পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump—এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি Karoline Leavitt এক বিবৃতিতে বলেন, “সর্বাধিনায়কের জন্য বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুত রাখা পেন্টাগনের দায়িত্ব। এর অর্থ এই নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
এদিকে যুদ্ধ পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রায় ৩,৫০০ সেনা ইউএসএস ট্রিপোলি জাহাজে করে এ অঞ্চলে পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা রয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য অভিযানে মার্কিন সেনাদের ইরানের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, স্থল হামলা এবং তাৎক্ষণিক বিস্ফোরক (IED) হুমকির মুখে পড়তে হতে পারে।
এছাড়া প্রশাসনের ভেতরে আলোচনায় খার্গ দ্বীপ দখল এবং হরমুজ প্রণালীর আশপাশে অস্ত্র অনুসন্ধান ও ধ্বংসের পরিকল্পনাও এসেছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য এসব অভিযান কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলার ইঙ্গিতের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “শত্রুরা প্রকাশ্যে আলোচনার কথা বলছে, আর গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। আমাদের বাহিনী তাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।”
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, ইরানের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের হামলার চেষ্টা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি এবং ইরানও সরাসরি এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
