বগুড়ার শেরপুরে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন মতিয়ার রহমান (৬৯) মারা গেছেন। এই ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শেরপুর থানায় ১২ জন নামীয়সহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে নিহতের ভাতিজি মোমেনা খাতুনের কাছ থেকে প্রতিবেশী বেলি বেগম জমি দেওয়ার কথা বলে পঁচাত্তর হাজার টাকা ধার নেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও বেলি বেগম জমি বা টাকা কোনোটিই ফেরত দিচ্ছিলেন না। এই নিয়ে গত ২১ মার্চ উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও গালিগালাজের ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ মার্চ, রোববার, সকাল এগারোটার দিকে শরিফ সুঘাট এলাকায় মতিয়ার রহমানকে একা পেয়ে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, মামলার সাত নম্বর আসামির হুকুমে এক নম্বর আসামি মো. শাহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে মতিয়ার রহমানের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। দুই নম্বর আসামি মো. রুবেলের আঘাতে বৃদ্ধের ডান পা ভেঙে যায়। অন্যান্য আসামিরা তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে। হামলায় বৃদ্ধের সামনের তিনটি দাঁত ভেঙে যায় এবং তাঁর পকেটে থাকা নগদ ত্রিশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত মতিয়ার রহমানকে প্রথমে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে বাড়িতে নেওয়া হয়। তবে গত ২৮ মার্চ আবারও তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পুনরায় বগুড়া শহরে নেওয়ার পথে দুপুর দুইটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম মঈনুদ্দিন বলেন, অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কুশল/সাএ
