কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে সংঘর্ষে গুরুতর আহত কৃষক রহম আলী (৭০) আটদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মারা গেছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত রহম আলী উপজেলার কেওয়াড়জোড় ইউনিয়নের লাউকুড়া গ্রামের মৃত জগর আলীর ছেলে। তিনি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের চাচা বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেওয়াড়জোড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের সঙ্গে একই এলাকার নজীর আহমেদ, সজীব, আলীরেজার ও বুলবুল গ্রুপের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও কয়েক দফা সংঘর্ষ এবং আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে আবুল কাশেম আওয়ামী লীগের এবং নজীর আহমেদ, সজীব, আলীরেজা ও বুলবুল বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
সরকার পরিবর্তনের পর আবুল কাশেমের ওপর মামলা তুলে নেওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু মামলা প্রত্যাহার না করায় ঈদের ১দিন পর, গত ২৩ মার্চ সোমবার সকালে নজীর আহমেদ, সজীব, আলীরেজা ও বুলবুলের সমর্থকরা আবুল কাশেমের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালায়।
এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে গেলে রহম আলীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। গুরুতর আহত রহম আলীকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মিঠামইন থানার ওসি লিয়াকত আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
