Dhakainfo24
ঢাকাশনিবার , ৪ এপ্রিল ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. চাকরি
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. বিনোদন
  9. রাজনীতি
  10. শিক্ষা
  11. সর্বশেষ
  12. সারাদেশ
  13. স্বাস্থ্য

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে পোস্ট শেয়ার, যুবককে গ্রেপ্তার বিষয়ে যা জানা গেল

ঢাকা ইনফো২৪
এপ্রিল ৪, ২০২৬ ২:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কিত আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে আজিজুল হক নামে একজনকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকরণ ঘটেছে ২৬ মার্চ রাতে। পরে, তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ও সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলু।

মুক্তাগাছা থানার পুলিশ ধারা ৫৪ অনুযায়ী তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিচারিক আদালতে পাঠায় এবং আদালত পরে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। তবে মামলার বিস্তারিত এবং অভিযোগের বিষয় নিয়ে বাদী ফজলু কোনো মন্তব্য করেননি। ময়মনসিংহ আদালতের পুলিশের পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান জানান, মামলাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে এবং মুক্তাগাছা কগনিজেন্স আদালতে এফআইআরের মাধ্যমে মামলা হয়েছে। তিনি জানান, মামলা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দায়ের করা হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন যে, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল হলেও নতুন অধ্যাদেশ ও সংশোধিত আইনগুলোতে এখনও বিতর্কিত ধারা রয়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, “২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন থেকে শুরু করে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশসহ চারবার আইন পরিবর্তন হয়েছে। যদিও কিছুটা লিবারেলাইজেশন হয়েছে, তবে অপব্যবহারের সুযোগ এখনও রয়েছে। আমাদের বারবারই বলা হয়েছে, এই আইনগুলো যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে বিরোধী না হয়।”

আইনজীবীরা আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের করা কোনো অধ্যাদেশ যদি ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সরকার বাতিল না করে, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। অর্থাৎ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ বর্তমান জাতীয় সংসদে আইনে পাশ না হলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কোনো কুরুচিপূর্ণ ছবি প্রকাশ করা হলে তা অবশ্যই আইনের আওতায় আসা উচিত, কারণ নাহলে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।”

মুক্তাগাছায় ঠিক কী ঘটেছে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর পাশে একজন নারীর ছবি বসিয়ে একটি ফটোকার্ড তৈরি করে তা তারেক রহমানের নাম সম্বলিত একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়েছিল।

এই পোস্টটি গত বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ গ্রেফতারকৃত আজিজুল হকের অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পোস্টটি ভাইরাল হওয়ায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং রাতেই ঝনকা বাজারে বিক্ষোভ শুরু করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ময়মনসিংহের এক স্থানীয় সাংবাদিক জানান, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমানের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আজিজুল হককে গ্রেফতারের দাবি করেন। তবে ওসি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ওসি মো. লুৎফর রহমান বলেন, “তার পোস্ট ভাইরাল হওয়ায় আমরা তা দেখেছি। এলাকা থেকে তথ্য পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেফতার করেছি। আমার ওপর কোনো চাপ বা ‘মব’ প্রয়োগ হয়নি।”

পরদিন, শুক্রবার, এই পোস্টের ঘটনায় মামলা দায়ের করেন মো. ফজলু। তবে ফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি পারিবারিক কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

কী পরিবর্তন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে?

সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ বাতিল করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ প্রণয়ন হলেও পুরোনো বিতর্কিত ধারা রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এর মধ্যে অন্যতম পুলিশকে বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া।

নতুন অধ্যাদেশের ৩৫(ঘ) ধারায় বলা হয়েছে, যদি পুলিশ মনে করে কোনো ব্যক্তি এ আইনের অধীনে অপরাধে লিপ্ত হয়েছেন বা হচ্ছেন, তাহলে তাকে পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করা যাবে।

আগের আইনেও এই বিতর্কিত ক্ষমতা ছিল, যেটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। তবে কিছু পরিবর্তনও এসেছে।

নতুন অধ্যাদেশে মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকা নিয়ে সমালোচনার অপরাধের দণ্ডের বিধান আর রাখা হয়নি।

পূর্ববর্তী আইনের ২১ ধারায় এসব বিষয়ে ‘বিদ্বেষ’ ছড়ানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হতো। এবার সেই ধারা পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে নতুন অধ্যাদেশে সাইবার অপরাধের সংজ্ঞা আরো বিস্তৃত করা হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(এআই) টুল ব্যবহার করে কোনো নেটওয়ার্কে অবৈধ প্রবেশ বা ক্ষতিসাধনকে এখন থেকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হবে। এতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধানও রয়েছে।

অধ্যাদেশে আরো উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধ করে শাস্তি ও জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২,৪,৫,৬, ৮,১০,১১,১৫,১৯ এই নয়টি ধারা বাতিল করে এসব ধারায় বিচারাধীন এবং তদন্তাধীন থাকা সব মামলা বাতিল করা হয়েছে।

এমনকি আদালতের দেওয়া সাজাও কার্যকর হবে না।

‘আগের অবস্থারই পুনরাবৃত্তি চলছে’

২০০৬ সালের তথ্য প্রযুক্তি আইন রহিত করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনটি হওয়ার পর থেকেই শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আগ পর্যন্ত গত কয়েক বছরে সাংবাদিক, রাজনীতিক, শিল্পী, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, গার্মেন্টসকর্মী থেকে শিক্ষক ছাত্র পর্যন্ত আসামী হয়ে জেল খেটেছেন।

এই আইনের কিছু ধারা নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়েছিল মানবাধিকার কর্মীরা। ওইসময় এই আইনে গ্রেফতার, হয়রানির অভিযোগ প্রায়শই শোনা যেত।

কার্টুনিস্ট কিশোর আহমেদ এবং লেখক মুশতাক আহমেদকে গ্রেফতার নিয়ে ওইসময় ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরে কারাগারেই মারা যান মুশতাক আহমেদ।

পরে সেটি পরিবর্তন করে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ প্রণীত হয়।

আইনের কিছু ধারা বাতিল করা হয়েছে, সাজার পরিমাণ কমানো হয়েছে এবং মিথ্যা মামলা দায়ের করা হলে সেটিকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অ-জামিনযোগ্য ধারা ১৪টি থেকে কমিয়ে চারটি করা হয়েছে। তবে পুলিশের কাছে বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি ও গ্রেফতারের ক্ষমতা থাকায় মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এ আইনেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ রয়েছে। পরে সমালোচিত এই আইনও বাতিল করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ বাতিল করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ প্রণয়ন করা হয়। মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করছেন, মামলা হওয়ার আগেই অতি উৎসাহী ব্যক্তিদের কারণে এই আইন যত্রতত্র ব্যবহার হচ্ছে। পুলিশও অনেক সময় অতি তৎপরতা দেখাচ্ছে।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, “ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের পুনরাবৃত্তি আমরা দেখছি। ব্যক্তি বিশেষকে খুশি করার জন্য প্রশাসন থেকে উপযাচকভাবে যে কাজগুলো করা হচ্ছে, তা আগের মতোই আছে।”

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, “আইন চারবার পরিবর্তন হয়ে কিছুটা লিবারালাইজেশন এসেছে, তবে কাঙ্খিত ফলাফল এখনও আসেনি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আইন থেকে সরানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।”

অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেন, “প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে একজন নারীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ছবি প্রকাশ অবশ্যই আইনের আওতায় আসা উচিত। ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন বা সমালোচনা অন্য বিষয়, কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ক্ষতিকর কাজ গর্হিত অপরাধ এবং সেটি শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।”

৫৪ ধারায় বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের বিষয়ে সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “নিবর্তনমূলক আইন থাকা উচিত নয়, তবে এই ধরনের অপরাধ অবশ্যই শাস্তির আওতায় আসা উচিত।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা



কুশল/সাএ

ঢাকা ইনফো২৪

ঢাকা ইনফো ২৪ একটি বহুমুখী তথ্য বাতায়ন যেখানে আপনি পাবেন ব্রেকিং নিউজ, লাইফস্টাইল গাইড এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সব আপডেট। আপনার প্রতিদিনের তথ্যের চাহিদা মেটাতে আমরা আছি আপনার পাশে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।