খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) প্রধান ফটকের সামনেই শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী (মুজিব বর্ষ)উপলক্ষে নির্মান করা হয়েছিল “কালজয়ী মুজিব” নামক ম্যুরালটি। এই ম্যুরালটি ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে বেদিসহ ৩৮ ফুট উচু ও ৪৩ ফুট বিস্তৃত শেখ মুজিবের ম্যুরাল “কালজয়ী মুজিব ” স্থপন করা হয়।এই ম্যুরালটির নির্মান কাজ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান।
কিন্তু ৫ আগস্ট ২০২৪ ছাত্র জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনার পতনের পরে খুলনা সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিস্ট সরকার ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নির্মিত বিভিন্ন হলের নাম পরিবর্তন এবং স্থপত্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল তার ব্যতিক্রম নয়।
কিন্তু পরবর্তীতে ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ মধ্যরাতে খুবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে বুলডোজার দিয়ে মুজিব ম্যুরাল ভাঙা শুরু করে। বর্তমানে ওই স্থানটিতে ম্যুরালটির আর কোন অস্তিত্ব নেই। জুলাই গনঅভ্যুত্থানে বছর অতিক্রম করলেও মুজিব ম্যুরালের পরিবর্তে কোন শিল্পকর্মের স্থান পেতে পারে সেই ব্যাপারে প্রশাসনের কোন দৃষ্টিপাতই দেখছি না।
আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিনের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সৈকত বলেন,”ম্যুরাল বা ভাস্কর্য বিভিন্ন কারণে তৈরি হতে পারে, যেমন: ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরা, নান্দনিক সৌন্দর্য,এডুকেশন , কালচারাল ইত্যাদি। ভাস্কর্য বা ম্যুরাল না থাকার জন্য সামান্য শিক্ষার অভাববোধ করা যায়। এটা তো আমাদের ক্যাম্পাস এর স্মৃতি ঐতিহ্য ইতিহাস এর যে প্রতীকী সেটা অনুপস্থিত।
যদি আমার ডিসিপ্লিনের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করি তাহলে Public art & architecture relationship টা বোঝা যায়।একটা urban design এর জন্য ম্যুরাল প্লেস কিভাবে করলে সেই জায়গা টি আরও প্রাণবন্ত হচ্ছে সেটাও বোঝা যায়।
সেই ম্যুরাল এর জায়গা টি তে অবশ্যই অন্য কোনো একটা ম্যুরাল স্থাপন করা জরুরি বলে আমি মনে করি। যেই ম্যুরাল টি অবশ্যই আমার ক্যাম্পাস এর ইতিহাস , ঐতিহ্য রিপ্রেজেন্ট করবে।”
আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী অদিতি মালো অথৈ বলেন, ” বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যুরাল নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্যাম্পাসের পরিবেশকে নান্দনিক, শিক্ষামূলক এবং সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ করা। ম্যুরালের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শ, মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতা এবং সামাজিক সচেতনতার প্রতিফলন ঘটে।সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটাতে এবং বিভিন্ন সামাজিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ভাবতে উৎসাহিত করে।
ম্যুরাল যেহেতু অনেক ক্ষেত্রেই কোন একটি ঘটনাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে এর পিছনের ইতিহাস, সমাজ ও রাজনৈতিক কারন গুলো নতুন প্রজন্মের কাছে কিছু বার্তা বহন করে । এতে তারা স্বাধীনতা, মানবতা, সাম্য ও ঐক্যের বার্তা পায়।
একটি ম্যুরাল অবশ্যই ইতিহাস আর সংস্কৃতির প্রতীক। এই ম্যুরাল যেই আঙ্গিকে বানানো হয়েছিল সেটি শ্রদ্ধা প্রদর্শনীর একটি অংশ ছিল। বর্তমানে যদি সেখানে নবচেতনার দিকটি লক্ষ্য রেখে আর একটি ম্যুরাল বানানো হয় তাহলে আশা করি আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারবে। প্রশাসনকে এই দিকটি বিবেচনায় আনার অনুরোধ রইল।”
খুবির রেজিস্ট্রার দপ্তরের মাধ্যমে জানা যায় “টাকার জন্য কাজের প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। সরকার টাকা দিলে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করবে, না দিলে কাজ আরও দেরি হবে। কিন্তু টাকার বিষয়ে সরকারের কাছে লেখালেখি হয়েছে। ”
এই বিষয়ে আরও জানা যায়, কবে শিল্পকর্মটির কাজ চলমান হবে নির্দিষ্ট কোন তারিখ বা সাল উল্লেখ করে নাই।ওই স্থানটিতে কোন ধরনের শিল্পকর্ম হবে এই বিষয়ে কোন আপডেট পাওয়া যায় নি।
