পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করছে—এমন অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নানা ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে এক্সপ্রেস নিউজ উর্দু।
এ সময় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ১২ এপ্রিল দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঘোষণা দেন তিনি।
সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুসারী আখ্যা দিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ফিলিস্তিনে গণহত্যার পর এখন ইসরায়েলের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আগ্রাসন চালাচ্ছে এবং লেবাননেও হামলা অব্যাহত রেখেছে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে এই শক্তিগুলো, অথচ পাকিস্তানের সরকার তাদের পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছে। যুদ্ধবিরতির আলোচনার নামে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো থেকে জনগণের দৃষ্টি সরানো হচ্ছে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তানের পতাকাবাহী ১০টি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার দাবি যদি সত্য হয়, তাহলে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন কেন পড়ল। এসব জাহাজ আদৌ করাচিতে পৌঁছেছে কি না এবং পৌঁছালে সেগুলোর মালামাল খালাস হয়েছে কি না—তা জাতির সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার দাবি জানান তিনি।
সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সমালোচনা করে প্রভাবশালী এ রাজনীতিবীদ বলেন, হরমুজ প্রণালী এখন পুলসিরাতের মতো হয়ে গেছে। একজন হাফেজ যেমন ১০ জনকে পুলসিরাত পার করাতে পারবে তেমনি আমাদের সেনাপ্রধান ১০টি জাহাজ পার করে এনেছেন। এগুলো জাতির সঙ্গে তামাশা। কোনো সভ্য সমাজে এগুলো করতে দেওয়া যায় না।
ফজলুর রহমান বলেন, যেখানে ইসরায়েলের পক্ষপাতিত্বের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন নিজ দেশেই একা হয়ে পড়েছে, সেখানে আমাদের সরকার নির্লজ্জভাবে তাদের খুশি করতে এখনও গোলামি করে যাচ্ছে। এ সরকারের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো ক্ষমতাই নেই।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেশী দুই দেশ; আফগানিস্তান ও ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের ভুলনীতিরও সমালোচনা করেন তিনি।
কুশল/সাএ
