যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—একসঙ্গে “যুদ্ধ” ও “যুদ্ধবিরতি” চলতে পারে না; এ দুটির মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে।
ইরানের দাবি, যুদ্ধবিরতির জন্য নির্ধারিত ১০ দফা শর্তের মধ্যে অন্তত তিনটি ইতিমধ্যেই লঙ্ঘিত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হয়নি। পাশাপাশি, ইরানের ভেতরে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে তারা জানিয়েছে। এছাড়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিও মানা হয়নি বলে অভিযোগ তেহরানের।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বিভিন্ন দেশের তেলবাহী জাহাজগুলোকে ফিরে যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স, ইরানের একটি গণমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে এমন তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির শর্ত স্পষ্ট—হয় সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি, নয়তো ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। দুটি একসঙ্গে সম্ভব নয়।” তিনি আরও দাবি করেন, লেবাননের পরিস্থিতি বিশ্ববাসী দেখছে।
তেহরানের বার্তা পরিষ্কার—এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা যুক্তরাষ্ট্রের। তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ় দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য টোল আদায়ের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করতে আগ্রহী আমেরিকা। তাঁর দাবি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ় দিয়ে যে সমস্ত জাহাজ চলাচল করছে তাদের কাছ থেকে ইরান অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছিলেন, হরমুজ় প্রসঙ্গে আমেরিকা ও ইরানের আলোচনা চলতে পারে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে। তিনি জানিয়েছিলেন, দ্রুত সমস্ত প্রণালী খুলে যাবে। তবে তা না হয়ে আমেরিকার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই ইরান সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ করে দিল হরমুজ় প্রণালী।
কুশল/সাএ
