কুষ্টিয়ায় একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ভবনে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রহস্য ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম জুবায়ের আহম্মেদ (১৪)। তিনি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম মহাসীন।
জানা গেছে, আবাসিক ভবনে অবস্থানকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ভবনের ভেতরে এমন ঘটনার পরপরই মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এদিকে, সহপাঠীদের অভিযোগ, অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও জুবায়েরকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, সময়মতো যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। ফলে ঘটনাটিকে ঘিরে অবহেলার অভিযোগ সামনে আসছে।
নিহত ছাত্রের পিতা মোহাম্মদ মহাসীন আলী জানান, আমার ছেলের এজমার সমস্যা ছিল। সে নিয়োমিত ঔষধ সেবন করতো। রাতে অসুস্থ হলে আবাসিক থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আমার ছেলের মৃত্যু হয়। আমার ছেলের ময়নাতদন্ত করতে চাইনা। আমি সম্মানের সাথে লাশ নিয়ে দাফন করতে চায়।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানটির মৌলিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। বিশেষ করে অসুস্থতার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। বাংলাদেশে প্রচলিত শিশু সুরক্ষা নীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক তদারকি এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।
এ ধরনের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ, স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যাশিত বলেও মনে করছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার অভাব থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও উদ্বেগজনক রূপ নিতে পারে।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগেও নানা প্রশ্ন উঠেছিল। তবে এ ঘটনায় নতুন করে প্রশাসনিক তদারকি ও তদন্তের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দায়িত্বশীলতার জায়গায় যদি কোনো ধরনের শিথিলতা থেকে থাকে, তবে তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেল-এর ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সবমিলিয়ে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ভবনে শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যুকে ঘিরে শুধু শোক নয়, বরং দায়বদ্ধতা, নিরাপত্তা এবং ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন সামনে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুশল/সাএ
