বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসনটি ছেড়ে দেওয়ার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিজয়ের পর জাতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বগুড়ার উন্নয়ন, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।
সাক্ষাৎকারের শুরুতে তিনি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, জনগণের ভালোবাসাই তাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে দলীয় প্রধান তারেক রহমান-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান, যিনি তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন।
বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর জন্মস্থান হওয়ায় এবং বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এই জেলা দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। তার দাবি, গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি; বরং অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নবনির্বাচিত এই এমপি জানান, তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে থেমে থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনরায় চালু করা। করতোয়া নদীর খনন, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি বিশেষভাবে জোর দেন শিক্ষাখাতে।
তিনি বলেন, “বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।” তিনি উল্লেখ করেন, প্রাচীন জনপদ মহাস্থানগড়-কেন্দ্রিক এই অঞ্চলে আড়াই হাজার বছর আগে সভ্যতা ও জ্ঞানচর্চার বিকাশ ঘটেছিল। অথচ বর্তমানে এই জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তার ভাষায়, রাজশাহী বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বড় অংশ বগুড়া থেকে উঠে এলেও উচ্চশিক্ষার জন্য তাদের অন্য জেলায় যেতে হচ্ছে, যা তিনি “অবহেলা নয়, সরাসরি বঞ্চনা” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, বগুড়ার উন্নয়নের প্রথম ধাপ হিসেবে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিল্প ও অর্থনীতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রেজাউল করিম বাদশা বলেন, বগুড়া উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার এবং এখানে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফাউন্ডারি শিল্প ও কৃষিযন্ত্র উৎপাদনে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
সংস্কৃতি ও প্রকাশনা খাত নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বগুড়া ঐতিহ্যগতভাবে সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ এবং একসময় প্রকাশনা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। এই খাতগুলোর পুনর্জাগরণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দলীয় ঐক্যের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি একটি বড় পরিবার, যেখানে মতপার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু বিভেদ নয়। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই তিনি উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চান।
সবশেষে তিনি তার স্বপ্নের বগুড়ার কথা তুলে ধরে বলেন, একটি শিক্ষাবান্ধব, শিল্পসমৃদ্ধ ও আধুনিক জেলা হিসেবে বগুড়াকে গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। “একসময় বলা হতো বগুড়া হবে দেশের দ্বিতীয় রাজধানী আমরা সেই স্বপ্ন আবার ফিরিয়ে আনতে চাই,” বলেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।
