একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর কোনো অভিযোগ পায়নি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে ১৯টি সুপারিশ করেছে ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন, যার মধ্যে ছয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ভবিষ্যতে নির্বাচনে আরও স্পষ্টভাবে দেখা যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস।
গত বছরের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করা এই মিশনের অধীনে নির্বাচনের দিন, ১২ ফেব্রুয়ারি, ইইউ সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আসা ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪টি জেলায় দায়িত্ব পালন করেন।
মিশনের প্রধান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ছিল। ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকার কারণে পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
ইভার্স ইজাবস বলেন, ভোটের কাস্টিং খুব ভালো। পোস্টাল ব্যালটের বিষয়টিও প্রসংশনীয়। আগামী সংসদ নির্বাচন আরও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হবে বলে আশা করি।
এ সময় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে ডিজিটাল মাধ্যমে নারী হেনস্তা রোধ, এক তৃতীয়ংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ও প্রার্থীদের খরচের হিসাব-নিকাশ নিয়ে অডিট এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য সুবিধা বাড়ানোসহ ১৯ প্রস্তবনা তুলে ধরেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘমেয়াদি ৫৬ পর্যবেক্ষক, স্বল্পমেয়াদি ৯০ জনসহ মোট ২২৩ জন ইইউ পর্যবেক্ষক কাজ করেন। সংসদ নির্বাচন নিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর এবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় ইইউ।
এর আগে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন নিয়ে মিশনটি তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
১২ ফেব্রুয়ারি অন্তবর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হয়। নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করে। বিরোধী দলে বসে জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রশ্ন তুলে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল।
কুশল/সাএ
