জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনে সহ-সভাপতির পদে ইরান নির্বাচিত হওয়াকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শুরু হওয়া এনপিটির ১১তম পর্যালোচনা সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সমর্থনে ইরানকে সহ-সভাপতিদের একজন হিসেবে মনোনীত করা হয়। সম্মেলনের চেয়ারম্যান জানান, নিরপেক্ষ জোটভুক্ত ও অন্যান্য দেশগুলোর পক্ষ থেকেই এই মনোনয়ন এসেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, ইরানের এই নির্বাচন এনপিটির মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। তাদের অভিযোগ, ইরান দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অপ্রসারণ নীতির প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়ে আসছে এবং আন্তর্জাতিক তদারকি সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে না।
অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং এখনো তার অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন করছে, তাই এ ধরনের অভিযোগ তোলার নৈতিক অধিকার তাদের নেই।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় জানিয়েছে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। যদিও ইরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলনে ইরানের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আরও উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: রয়টার্স।
