গাজীপুরের কালীগঞ্জে পৃথক অভিযানে স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের দায়ে একজনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অনুমতি ব্যতীত কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার দায়ে দুই ব্যক্তিকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) উপজেলার জামালপুর, চুপাইর, পিপুলিয়া এবং নাগরী ইউনিয়নের দারকাভাংগা এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। আদালত পরিচালনা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চুপাইর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে নিয়মিত উত্ত্যক্ত করে আসছিল নাজমুল আলম (৪২) নামের এক ব্যক্তি। সে উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের উত্তর খৈকড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। ওই ছাত্রীকে ইভটিজিং করার সময় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৫০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে নাজমুল আলমকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
অন্যদিকে, একই দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এসময় অনুমতি ব্যতীত মাটি কাটার অপরাধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় দুইজনকে মোট ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— পিপুলিয়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মো. আতিক (৪৮) এবং নাগরী ইউনিয়নের দারকাভাংগা গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে মো. মাহবুবুর রহমান (৪৮)। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি জমি রক্ষায় আমাদের এই ধরণের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অপরাধে একজনকে জেল দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি অনুমতি ছাড়া কৃষি জমির মাটি কাটায় দুইজনকে জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।”
অভিযান চলাকালে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্রপক্ষ এবং বেঞ্চ সহকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাহবুবুল ইসলাম। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই তৎপরতায় স্থানীয় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সাজাপ্রাপ্ত নাজমুল আলমকে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
