ভোলার লালমোহন পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ডে নারিকেল পাড়া নিয়ে তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো: মাসুদ হাওলাদার (৪২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে রেশমা (৩৫) তার স্বামী ফিরোজ (৪৫) তানভির (২৫) ও আক্তার (৩০) কে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৬ মে) দুপুরে মো. মাসুদ হাওলাদার বাড়িতে না থাকাকালে প্রতিবেশী রেশমা তার স্বামী ফিরোজ, ছেলে সজীব (২২) এবং আরও কয়েকজনকে নিয়ে মাসুদের বাড়ির একটি নারিকেল গাছ থেকে নারিকেল পাড়তে যান। এ সময় মাসুদের মেয়ে মাসুমা বাধা দিলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রেশমা তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে মাসুমার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
এতে মাসুমার হাতে গুরুতর জখম হয়। এ সময় মাসুদের বোন ফাতেমা বেগম (৭০) এগিয়ে এসে বাধা দিলে তাকেও মারধর করা হয়। হামলায় তার হাত ভেঙে গেছে বলে পরিবারের দাবি। চিৎকার শুনে প্রতিবেশী মো: শাহিন ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধরের শিকার হতে হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা শাহিনকে বেঁধে রেখে নির্যাতন চালায়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে বাজার থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন মো. মাসুদ হাওলাদার। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদ হাওলাদারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বরিশাল নেওয়ার পথে ভেদুরিয়া লঞ্চঘাটে বুধবার রাত সাড়ে ১১ টায় তিনি মারা যান।
ঘটনার পর নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রেশমা ও তার স্বামী ফিরোজ তানভির ও আক্তার (৩০) কে আটক করেছে পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: অলিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় অলরেডি আমরা ৪ জনকে আটক করেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে।