দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র (রুই জাতীয়) হালদা নদী। প্রজনন মৌসমে রুই, কাতল, মৃগেল, কালিবাউশসহ মিঠা পানির সকল মাছ ডিম দিতে অতিথি পাখির ন্যায় হালদা নদীতে এসে ভীড় জমায়! হালদার পানি প্রজননের জন্য অধিক নিরাপদ বিধায় মৎস্য উৎপাদনে হালদা দেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র এবং পৃথিবীর একমাত্র জোয়ার ভাটার নদী!
কিন্তু হালদার গুরুত্ব এখনও হালদাপাড়ের মানুষের কাছে অজানা! ফলে হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে অংশীদারদের উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালার আয়োজন করেছে হালদার উজান খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা মৎস্য বিভাগ।
হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (২য় পর্যায়) এর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে ইউএনও তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উদ্ধুদ্ধকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ড. সুমন বড়ুয়া।
বক্তব্যে প্রধান অতিথি ড. রাজু আহমেদ বলেন, হালদা আমাদের জন্য প্রকৃতির নিয়ামত। এই নদীর মৎস্য পোনা লাখ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। এর ফলে দেশে মাছের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশীয় অর্থনীতিতে গুরুত্ব ভুমিকা রাখছে হালদা নদী। হালদার ওপর মানবসৃষ্ট দুর্বৃত্তায়ণে আজ এই হেরিটেজ ক্ষতির মুখে পড়েছে! এ থেকে উত্তরণের জন্য হালদার উজানে নদীর দুপাড়ে তামাক চাষ বন্ধে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। তাই তামাক চাষিরা হালদার আশেপাশে তামাক চাষের বিকল্প চাষাবাদে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে হালদা প্রকল্প এবং সরকারের মৎস্য ও কৃষি বিভাগ সহযোগিতা করবে’।
এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জহির রায়হান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কাজী মাসুদুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মীর হোসেন, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল মান্নান, তামাক চাষি মো. তাজুল ইসলাম, মাসুম মিয়া ও মো. গিয়াস উদ্দিন প্রমূখ।