ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর মধ্যে টানা দুই মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখনো চূড়ান্ত সমাধানের মুখ দেখেনি। তবে এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে একটি কাতারি এলএনজি ট্যাংকারের যাত্রা আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (৮ মে) মার্কো রুবিও জানান, যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি আলোচনার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন একটি প্রস্তাব তেহরানের কাছে পাঠিয়েছে। যদিও ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবু ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, খুব শিগগিরই ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, আসন্ন চীন সফরের আগেই সংঘাত পরিস্থিতির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী ওয়াশিংটন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম কোনো কাতারি এলএনজি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পাকিস্তান–এর দিকে যাত্রা করেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাতার ও পাকিস্তান চলমান সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্যাংকারটিকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দেওয়া তেহরানের পক্ষ থেকে একটি আস্থা তৈরির পদক্ষেপ বা ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
শান্তি আলোচনার জল্পনার মধ্যেই ইরানের সেনাবাহিনী চরম হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলছে, তাদের জন্য এই নৌপথ ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, শত্রুপক্ষ পুনরায় আক্রমণ করলে ইরান তাদের সম্পূর্ণ নতুন ও আধুনিক মারণাস্ত্র দিয়ে ‘বিস্মিত’ করে দেবে। ইরানের সংসদ ‘শত্রু রাষ্ট্রগুলোর’ জাহাজ চলাচল স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে একটি নতুন আইন প্রণয়নের কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে চলাচল অবরোধ ও যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ব্রিটেন ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে এবং ফ্রান্সের সাথে মিলে একটি বহুজাতিক নিরাপত্তা মিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে।
এখন দেখার বিষয়, কাতারি ট্যাংকারের এই যাত্রা যুদ্ধের অবসান ঘটায় নাকি এটি কেবল একটি সাময়িক স্বস্তি হিসেবেই থেকে যায়। পুরো বিশ্ব এখন তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে।
কুশল/সাএ