দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক বার্তা নিয়ে চলতি মে মাসের প্রথম ১০ দিনেই দেশে এসেছে ১২৮ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। এতে প্রতিদিন গড়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ মে পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট ৩ হাজার ৬১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা এবং বাজারভিত্তিক ডলার দর নির্ধারণের কারণে প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে দেশে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। আর মার্চ মাসে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। জানুয়ারিতে দেশে আসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ডলার। এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে আয় ছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। আগস্ট ও জুলাইয়ে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়েই দেশে প্রবাসী আয়ের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল। ওই অর্থবছর প্রবাসীরা মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কুশল/সাএ