ভোলায় মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও মাসিককালীন কিশোরীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে পরিচালিত ‘স্টপ দ্য স্টিগমা ২.০: এমপাওয়ারিং ড্রিমস অব মেনস্ট্রুয়েটিং গার্লস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের লার্নিং শেয়ারিং মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।ক
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলা কৃষি অফিস মিলনায়তনে সাজেদা ফাউন্ডেশন বাস্তবায়নে ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রকল্পের আওতায় কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ তৈরি এবং সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণে বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এছাড়া কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অধিকার নিশ্চিতে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার সোনালী তালুকদারের সঞ্চালনায় সভায় প্রকল্পের পরিকল্পনা ও চলমান কার্যক্রম তুলে ধরে প্রজেক্ট ম্যানেজার বিপ্লব হোসেন জানান, ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই ‘স্টপ দ্য স্টিগমা ২.০’ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ৩১ মে শেষ হয়। ১১ মাসব্যাপী ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
তিনি জানান, এই প্রকল্পের আওতায় মোট ৫৩ হাজার ৩৪০জন কিশোর, কিশোরী, শিক্ষক, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছেন। এ সময় দুই উপজেলায় ১৫ হাজার কিশোরকে নিয়ে ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন পরিচালনা করা হয়। এসব সেশনের মূল বিষয় ছিল বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সচেতনতা, যৌনবাহিত রোগ ও প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ, এইডস, কৈশোরকালীন গর্ভধারণ ও পরিবার পরিকল্পনা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগকালীন সময়ে মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ও ব্যবস্থাপনা।
এছাড়াও এসআরএইচআর, মাসিককালীন স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, জেন্ডার সচেতনতা এবং যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিয়েও কাজ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিপ্লব হোসেন আরও বলেন, ভোলা সদর উপজেলার ৫০টি ও দৌলতখান উপজেলার ৪২টি বিদ্যালয় ও মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক সেশন পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই উপজেলার ৯২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুইজন করে রিসোর্স শিক্ষক তৈরি করা হয়েছে, যারা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ভোলা সদরের ১৫ টি ও দৌলতখান উপজেলার ৮টি বিদ্যালয় ও মাদরাসায় ওয়াশ ব্লক স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়াও দুই উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে তিনজন করে মোট ৬৩ জন নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে ‘চ্যাম্পিয়ন মা’ ও ‘চ্যাম্পিয়ন বাবা’ গড়ে তোলা হয়েছে, যারা নিজ নিজ এলাকায় মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন।
এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার আজহারুল হক। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয় অধিদপ্তর ভোলার উপ-পরিচালক ইকবাল হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রকিবুল হাসান ও ভোলা সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার দেলোয়ার হোসেন, সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শাহিন মাহমুদ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের প্রোগ্রাম স্পেশালিষ্ট নুর মোহাম্মদ ফেরদৌস চৌধুরী প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাসিক নিয়ে সামাজিক সংকোচ ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এখনো অনেক কিশোরীর স্বাভাবিক জীবনযাপন ও শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ ধরনের প্রকল্প কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় ভোলায় ‘স্টপ দ্য স্টিগমা ২.০’ প্রকল্পের কার্যক্রম প্রশংসিত বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। এসময় তারা ভোলার সদর উপজেলার পাশাপাশি সকল উপজেলায় এই প্রকল্প পরিচালনার জন্য দাবি জানিয়েছেন।
এসময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, নারী নেত্রী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুশল/সাএ