খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় স্থানীয় প্রশাসনের অভিযান চলাকালে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী, গ্রামবাসী ও প্রশাসনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে রামগড়ের পূর্ব বলিপাড়া গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম সহ উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন, রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম, সহকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব, আনসার সদস্য নুর মোহাম্মদ, আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিন, রামগড় উপজেলা অফিসের গাড়ি চালক হোসেন, অফিস সহকারি জয়নাল আবেদিন, গ্রামবাসী মো. আজাদ, সুমন, নূর হোসেন ও আবুল হাসেম।
জানা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে পূর্ব বলিপাড়ার ৫-৬ টি স্থানে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের খবরে অভিযানে যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযান টের পেয়ে বালু তোলার পাম্প সরিয়ে নেয়া হয়। এ সময় সেচ পাম্প ও সরবরাহ পাইপ কেটে দিলে বালু কারবারিদের উস্কানীতে স্থানীয়রা ভ্রাম্যমান আদালতের ওপর ইট পাটকেল ছুঁড়ে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ছোঁড়া হলে ৩ গ্রামবাসী আহত হয়।
এ বিষয়ে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীমের মুঠোফোনে জানান, ‘রামগড়ের পূর্ব থলিপাড়ার প্রায় ১০টি স্পট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। অভিযোগ পেয়ে আমরা মোবাইল কোর্টে যাই। গিয়ে দেখি অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের একেকটি স্পটের গভীরতা ছিল প্রায় ৩০ ফুট। অবস্থা খুবই খারাপ। অভিযান চলাকালেই প্রায় ১০০-১৫০ জনের একটি টিম আমাদের উপর চড়াও হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে আমরা প্রায় আধা কিলোমিটার পিছনে সরে আসি। পরে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে আমাদের উপর হামলা চালানো হয়। এতে আমিসহ ১১জন আহত হই। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত জানান, রামগড়ের পূর্ব বলি পাড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর শুনে মোবাইল কোর্ট অভিযানে যান ইউএনও। এসময় অবৈধ বালু উত্তোলন সিন্ডিকেট ইউএনওসহ অন্যান্যদের উপর হামলা করার ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০জন আহত হন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে সেখানে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে রয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বুঝে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুশল/সাএ