
হারমোনিয়াম বাজিয়ে অবিচলভাবে গান গেয়ে চলছেন গোপাল সাধু
ভারতের গুজরাটের জুনাগড় জেলার খাম্ভালিয়া গ্রামে এক ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীতের আসরে (দাইরো) দেখা গেলো এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। ভজন গায়ক গোপাল সাধু যখন মগ্ন হয়ে গাইছিলেন, তখন ভক্তরা তার ওপর লাখ লাখ রুপি বৃষ্টির মতো বর্ষণ করতে থাকেন।
একপর্যায়ে রুপির স্তূপ এতই বেশি হয়ে যায় যে, গায়ক প্রায় রুপির নিচেই ঢাকা পড়ে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হারমোনিয়াম বাজিয়ে অবিচলভাবে গান গেয়ে যাচ্ছেন গোপাল সাধু। আর ভক্তরা বড় বড় বস্তাভর্তি টাকা তার ওপর ঢেলে দিচ্ছেন। স্তূপটি এত উঁচু হয়েছিল যে তাকে প্রায় দেখাই যাচ্ছিলো না। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে অনুষ্ঠান চালিয়ে যান তিনি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে রীতিমতো কৌতূহল ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। একজন ব্যবহারকারী মজা করে লিখেছেন, ‘একে বলে আসল ওয়ার্ক ফ্রম হোম। শুধু বসে থাকা আর টাকার বৃষ্টিতে ভেজা।’ অন্য একজন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আশা করি তিনি ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছেন। টাকার স্তূপের মধ্যেই তিনি গেয়ে চলেছেন।’ তৃতীয় এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন, ‘আশা করি এই টাকার কিছু অংশ অন্তত গরিব ও দুস্থদের কল্যাণে ব্যয় হবে। ভুল কিছু বলে থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী।’
গুজরাটে ভজন বা লোকসংগীতের আসরে এভাবে টাকা ওড়ানোর ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। ২০২৩ সালে ভালসাদ জেলায় একটি বিশেষ ভজন অনুষ্ঠানে গায়ক কীর্তিদান গাধভির ওপর ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ রুপির নোটের বৃষ্টি হয়েছিল। এর আগে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নভসারি গ্রামে একটি অনুষ্ঠানে গাধভির ওপর প্রায় ৫০ লাখ টাকার নোট ওড়ানো হয়। ২০১৭ এবং ২০১৮ সালেও এমন ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল তুলেছিল।
তবে এই প্রথার পেছনে একটি সামাজিক উদ্দেশ্যও থাকে। গুজরাটের ঐতিহ্য অনুযায়ী, এ ধরনের আয়োজনে সংগৃহীত অর্থ সাধারণত জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়।