ময়মনসিংহের গৌরীপুরে গরু চুরির উপদ্রব কিছুতেই থামছে না। উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের বেরাটি পূর্বপাড়া গ্রামে একটি বসতবাড়ির দুটি গোয়াল ঘরের তালা ভেঙে চারটি গরু চুরি হয়েছে। গত বুধবার (১৪ মে) দিবাগত শেষ রাতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গরুর মালিক মো. হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শনিবার (১৬ মে) গৌরীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে প্রতিদিনের মতোই গোয়াল ঘরে গরু বেঁধে ঘুমাতে যান হারুন অর রশিদ। রাত আনুমানিক ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে সংঘবদ্ধ চোর চক্র গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তার গোয়াল ঘরে থাকা একটি শাহিওয়াল জাতের গাভী ও একটি বকনা বাছুর, এবং অপর গোয়াল ঘরের একটি দেশি গাভী ও একটি বিদেশি জাতের বাছুরসহ মোট ৪টি গরু নিয়ে চম্পট দেয়।
ভুক্তভোগী হারুন অর রশিদ বলেন, রাত গভীর হলে আমি গোয়াল ঘরের দিকে গিয়ে দেখি ঘরের তালা ভাঙা এবং দরজা খোলা। ভেতরে ঢুকে দেখি আমার দুটি গরুর একটিও নেই। চোরেরা আমার সারা জীবনের সঞ্চয় এক রাতেই শেষ করে দিয়ে গেল। একই সময় পাশের গোয়াল ঘরের মালিক মৃত আঃমতিন এর ছেলে মোঃ রতন মিয়া হাছুও দেখতে পান তার গোয়াল ঘরের তালা ভাঙা এবং ভিতরে থাকা একটি দেশি গাভী ও একটি বিদেশি জাতের বাছুর চুরি হয়ে গেছে। চুরি হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। রাতেই আশপাশের এলাকায় এবং পরদিন উপজেলার বিভিন্ন হাটে খোঁজাখুঁজি করেও গরুগুলোর কোনো সন্ধান পায়নি পরিবারটি। উপায় না পেয়ে অবশেষে তারা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।
রামগোপালপুর ইউনিয়নে গরু চুরির ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে বাংলা নববর্ষের রাতেও এই ইউনিয়নের পুম্বাইল ও গাঁও রামগোপালপুর গ্রামে এক রাতে ছয়টি কৃষক পরিবারের ১১টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সে সময় পুম্বাইল গ্রামের কামাল হোসেন, ওমর ফারুক, মোঃ মোস্তফা, আব্দুল আজিজ, মোজাম্মেল হক এবং গাঁও রামগোপালপুর গ্রামের মৃত জিলফত আলীর ছেলে আব্দুল হেলিমের গোয়ালঘর থেকে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা মূল্যের এসব গরু চুরি হয়।
একের পর এক চুরির ঘটনায় বেরাটি পূর্বপাড়া সহ আশপাশের এলাকার সাধারণ খামারি ও কৃষকদের মধ্যে নতুন করে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় অনতিবিলম্বে পুলিশি টহল জোরদার এবং দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গরু চুরির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চুরি হওয়া গরুগুলো উদ্ধার এবং এর সাথে জড়িত চোরচক্রকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালাউদ্দিন/সাএ