সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুল বারিক ফেসবুকে লাইভে এসে কেঁদে অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এত নির্যাতনের শিকার আওয়ামী লীগের আমলেও হইনি।
বিএনপি করেছি বলে কি অন্যায় করেছি? বিএনপি এখন ক্ষমতায়, তবুও যদি জেল-জুলুম আমাদের কপালে থাকে আর আমার দুই নিরাপরাধ ছেলে, এক ভাতিজাকে নির্যাতন করে, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়, তাহলে আর কী করার আছে?” দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করা এই যুবদল নেতা জানান, গত বুধবার রাতে পুলিশ তাঁর ছেলে, ভাতিজাসহ সাতজনকে আটক করে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে। এই ঘটনার পর তিনি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে কথাগুলো বলেন, যা উপজেলা ও জেলা জুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।
আব্দুল বারিক অভিযোগ করেন, এলাকার কিছু আওয়ামী লীগ সমর্থক পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হয়রানি করছে। তিনি সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের কাছে এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষের শান্তি ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করার কারণে তিনি তিনবার কারাবরণও করেছেন।
অথচ এখন তাঁর নির্দোষ দুই ছেলে ও ভাতিজাসহ সাতজনকে তাঁদের বাড়ির সামনে ছেলের কসমেটিকসের দোকান থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটক করে নির্যাতন করে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলের কসমেটিকসের দোকানেই কেন বারবার পুলিশ আসে এবং সর্বশেষ পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালিয়ে তাঁর নিরাপরাধ দুই ছেলে ও ভাতিজাকে মাদকের মামলা দেওয়া হয়েছে। অথচ কোনো মাদক পাওয়া যায়নি, তিনি দাবি করেন তাঁর ছেলেরা সিগারেটও খায় না। তাই তিনি পুলিশি নির্যাতন, হামলা, মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে, তাহিরপুর উপজেলা যুবদল এক প্রতিবাদলিপিতে আব্দুল বারিক, তাঁর ভাই, দুই ছেলে ও ভাতিজাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। যুবদল নেতা আব্দুল বারিক বলেন, “আমি বাজারে ছিলাম, আমি ও আমার ছেলে-ভাতিজারা ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার অপরাধ একটাই, আমি প্রাথমিক মনোনয়ন বঞ্চিত আনিসুল হকের গ্রুপ করি। আমি ন্যায় বিচার চাই।”
তাহিরপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম বলেন, “যুবদল নেতার দুই ছেলে মাদক ব্যবসায়ী বা জুয়াড়ি নয়, পুলিশ কোনো পক্ষকে খুশি করতে অতি উৎসাহী হয়ে ঘৃণ্য কাজটি করেছে। ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুল বারিক, তাঁর ভাই, দুই ছেলে ও ভাতিজাসহ কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।”
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হয়ে আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। দোকানে কোনো মাদক উদ্ধার করা যায়নি, তবে জুয়া খেলার কিছু উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের উজান তাহিরপুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে তাহিরপুর থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ যুবদল নেতা আব্দুল বারিকের ছেলে আশরাফুল ইসলামের দোকানে তল্লাশি চালায়। তবে কোনো মাদক উদ্ধার করা যায়নি। এ সময় দোকানে থাকা কয়েকজন যুবক পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে একজনকে আটক করলে অন্যরা তাকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
এতে পুলিশ সদস্য মিটু মিয়াসহ কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাতজনকে আটক করা হয়।
সালাউদ্দিন/সাএ