সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। একই অভিযানে ডাকাতদের জিম্মিদশা থেকে চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠবারের মতো পরিচালিত “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এ কুখ্যাত করিম শরীফ বাহিনীর বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালানো হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানার সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার ভোর ৪টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি বিশেষ আভিযানিক দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাদের আটক করা হয়। এ সময় ডাকাতদের কাছ থেকে একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়। পাশাপাশি জিম্মি থাকা চার জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতরা হলো— মো. রবিউল শেখ (৩০), বাগেরহাটের রামপাল থানার বাসিন্দা এবং রাজন শরীফ (২০), বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থানার বাসিন্দা। কোস্ট গার্ড জানায়, রাজন শরীফ করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।