আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হয়রানি প্রতিরোধে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ।
দাপুনিয়া পশুর হাট রবিবার (২৪ মে) বিকেলে পরিদর্শনকালে উপস্থিত সাংবাদিক, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উদ্দেশ্যে র্যাব-১৪ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পশুর হাটে মানুষের সমাগম ও বিপুল অর্থের লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন অপরাধী চক্র সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এসব অপরাধ দমনে র্যাব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
র্যাব জানায়, দাপুনিয়া বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাটগুলোতে পোশাকী ও সাদা পোশাকে টহল জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিশেষ নজরদারি দল সার্বক্ষণিক হাটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে ঈদ মৌসুমে সক্রিয় অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করেছে র্যাব। হাট এলাকা ও আশপাশের সড়কে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়। এছাড়া পশুবাহী ট্রাক কিংবা হাটে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত হাসিল আদায় বা ক্রেতা-বিক্রেতাদের হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথাও জানিয়েছে র্যাব-১৪।
সাধারণ মানুষের প্রতি সতর্কতামূলক বার্তায় র্যাব জানায়, হাটের নির্ধারিত সীমানার বাইরে রাস্তার পাশে পশু কেনাবেচা বা অবস্থান না করতে। এতে জনদুর্ভোগ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, বড় অঙ্কের টাকা লেনদেনে সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজন হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। জাল টাকা প্রতিরোধে পশুর হাটে বিশেষ দল ও জাল টাকা শনাক্তকারী মেশিন মোতায়েন থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে ময়মনসিংহের মাসকান্দা, শম্ভুগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরবসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলপথে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে র্যাব-১৪। জনভোগান্তি কমানো এবং অপরাধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়। পরিশেষে র্যাব-১৪ এর পক্ষ থেকে বলা হয়, “সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য আনন্দময় ও নিরাপদ ঈদযাত্রা উপহার দিতে র্যাব-১৪ সর্বদা প্রস্তুত ও বদ্ধপরিকর।”
কুশল/সাএ