
সংগৃহীত ছবি
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা স্থানান্তর ও নবায়ন নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে বাংলাদেশি প্রবাসীরা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে চাকরি পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই অনেকে বেকার কিংবা অবৈধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
প্রবাসীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে অভ্যন্তরীণ ভিসা ট্রান্সফারের প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। আগে কোনো কর্মী চাইলে সহজেই এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যেতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই সুযোগ না থাকায় বহু শ্রমিক চাকরি পরিবর্তন করতে পারছেন না। একই সঙ্গে অনেকের ভিসা নবায়নও আটকে যাচ্ছে, যদিও তারা দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে কাজ করে আসছেন।
অনেক প্রবাসী জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলেও নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হচ্ছে না। কেউ কেউ দাবি করেছেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের অভাবের কথাও মৌখিকভাবে উল্লেখ করছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ ও আমিরাতিকরণ মন্ত্রণালয় (Mohre) সম্প্রতি চাকরি পরিবর্তন সংক্রান্ত নিয়ম আরও স্পষ্ট করেছে। ২০২১ সালের ফেডারেল ডিক্রি-আইন নং ৩৩ অনুযায়ী, অধিকাংশ বিদেশি কর্মীর জন্য চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আগের মতো কঠোর শ্রম নিষেধাজ্ঞা আর কার্যকর নেই। নতুন নিয়োগকর্তার কাছে যেতে অনাপত্তি সনদ (NOC) বাধ্যতামূলক নয় বলেও জানানো হয়েছে।
তবে শ্রম আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এক বছরের ওয়ার্ক পারমিট নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।
যদিও নতুন এই নীতিমালা বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে এখনো সংশয়ে রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বহু প্রবাসী বাংলাদেশি।