শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মাহফুজ আলম বলেন, তাদের রাজনৈতিক প্রস্তাবনার মূল ভিত্তি তিনটি— রবুবিয়ত, দায়-দরদের সমাজ এবং সামাজিক গণতন্ত্র। তার ভাষায়, রবুবিয়ত হলো আত্মা, দায়-দরদ হলো চিন্তা আর সামাজিক গণতন্ত্র হলো দেহ। বাংলাদেশের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে গড়ে ওঠা এই সামাজিক গণতন্ত্র সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সব স্তরে।
রবুবিয়তের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এটি মানুষকে নিজের পাশাপাশি অন্য সব জীবের প্রতিও যত্নবান হতে শেখায়। একই সঙ্গে সব প্রাণীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা এবং ইকো-ডেমোক্রেসি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রকৃতি, নদী, বন, বন্দর, পানির উৎস ও বঙ্গোপসাগর সংরক্ষণের চেতনা গড়ে তোলে।
দায়-দরদের সমাজচিন্তা প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, এটি মানুষকে একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ করে দেয়। এ চিন্তার মাধ্যমে মানুষ কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে ওঠে। পাশাপাশি প্রতিহিংসার পরিবর্তে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মিত্রতার ভিত্তিতে সমাজ গঠনের পথ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, দায়-দরদের সমাজচিন্তা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম এই সংগঠক জানান, সামাজিক গণতন্ত্র এমন একটি ব্যবস্থার কথা বলে যেখানে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। এ ক্ষেত্রে সম্পদ, ভূমি ও কাজের পুনর্বণ্টন, সামাজিক গতিশীলতা এবং জাতীয় বুর্জোয়া প্রশ্ন মোকাবিলাকে বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মাহফুজ আলম বলেন, আমাদের রাজনৈতিক চর্চার মূল ক্ষেত্র হলো- অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত পুনর্গঠন, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, বিচার ও পুলিশ ব্যবস্থার সংস্কার, কৃষক-শ্রমিকের জন্য ন্যায্য আর্থ-রাজনৈতিক ব্যবস্থা, তরুণদের কর্মসংস্থান,নাগরিকদের জন্য নিরাপদ বায়ু, পানি, খাদ্য, আবাসন ও পরিবহন নিশ্চিত করা।
রাজনীতি সদা পরিবর্তনশীল। লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার চেয়ে বড় কোন ওস্তাদ নাই। আমরা চলতে চলতে শিখবো। ভুল হলে শুধরে নিবো।
কুশল/সাএ