
সংসদ সদস্যকে রাস্তায় ফেলে জনতার ব্যাপক মারধর!
জনরোষের মুখে পড়েছেন ভারতের রাজনৈতিক দল তৃণমূলের দুই সংসদ সদস্য। শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নজিরবিহীন মারধর, ডিম ছোড়া থেকে শুরু করে জামার কলার ধরে হামলার পর গতকাল রবিবার প্রায় একই ঘটনা হুগলির চণ্ডীতলায়।
শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়েছে, সেই সঙ্গে স্লোগান উঠেছে ‘চোর’ বলেও। জনতার ছোড়া ঢিলে মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। সংসদ সদস্যকে ঘিরে থাকা তৃণমূল কর্মীরা দ্রুত শুশ্রূষা করেন। কিছুটা সুস্থ বোধ করার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় চণ্ডীতলা থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেন।
কারা মারল? কেন গ্রেপ্তার করা হলো না তাদের? পুলিশকে পালটা এসব প্রশ্ন করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
জানা গেছে, সোনারপুরের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্তার প্রতিবাদে এদিন চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন জমা দিতে যাচ্ছিলেন সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের এক প্রতিনিধিদল। সে সময় থানা থেকে ঢিলছোড়া জনরোষ আছড়ে পড়ে তার ওপর। তাদের অভিযোগ, প্রথমে কল্যাণকে কালো পতাকা দেখানো হয়।
এর পর ‘চোর চোর’ স্লোগানে মুহুমুর্হু ইট-পাটকেল ধেয়ে আসতে থাকে তার দিকে। সে সময় তার মাথায় আঘাত লেগে রাস্তায় পড়ে যান তিনি।
দলের অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার ধস্তাধস্তিও হয়। তা প্রতিহত করে তারা নেতার শুশ্রূষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
দলীয় কর্মীদের শুশ্রূষার পর সংসদ সদস্য বলেন, ‘বাংলায় আর গণতন্ত্র নেই। বাংলা গুণ্ডাদের হাতে চলে গেছে। এই বাংলায় সংসদ সদস্যরাই যদি এভাবে আক্রান্ত হয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? আপনারা সবাই প্রতিবাদ করুন। ’
আক্রান্তদের অভিযোগ, পুরো ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ছিল নীরব। তার প্রতিবাদে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূল কর্মী, সমর্থকরা চণ্ডীতলা থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেন।
পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে কল্যাণ পালটা প্রশ্ন করেন, ‘কারা মারল আমাকে? কেন ব্যবস্থা নিলেন না? পেছন থেকে হামলা হয়েছে, আমাকে প্রাণে মারার চেষ্টা করেছিল। আমি মারা গেলে কি আমার শরীরের ওপর দিয়ে গিয়ে আপনারা অ্যাকশন নেবেন?’