
মাদাগাস্কার হিসিং ককরোচ
অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধভাবে রাখা এক লাখেরও বেশি জীবন্ত তেলাপোকা বা ককরোচ জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। এসব পোকার মূল্য প্রায় দেড় লাখ ডলার। দেশটির ইতিহাসে এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিদেশী অমেরুদণ্ডী প্রাণী জব্দ অভিযান হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে তাকে ‘ককরোচ কিংপিন’ হিসেবে সম্বোধন করেছে বার্তা সংস্থা এপি।
অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি, পরিবেশ ও পানি বিষয়ক দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত মাসে নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের বাথার্স্ট শহরের এক বাণিজ্যিক প্রজননকারীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেলাপোকা জব্দ করা হয়।
জব্দ পোকাগুলোর মধ্যে ছিল মাদাগাস্কার হিসিং ককরোচ ও ডুবিয়া ককরোচ, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার ডলার।
মাদাগাস্কার হিসিং ককরোচ বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলাপোকা প্রজাতিগুলোর একটি, যাদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি। দপ্তরের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, চকচকে বাদামি রঙের এসব পোকা মানুষের আঙুলের চেয়েও বড়।
এর তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ তেলাপেকার আকার অনেক ছোট। প্রায় দশমিক ৯ থেকে ১ দশমিক ৪ ইঞ্চি।
উষ্ণ ও উপক্রান্তীয় জলবায়ুর কারণে অস্ট্রেলিয়ায় তেলাপোকার বিস্তার বেশি এবং সেখানে শত শত প্রজাতি পাওয়া যায়।
বাথার্স্টের সর্প বিশেষজ্ঞ স্টেফানি লেসার অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে জানান, এসব বড় আকারের বিদেশী ককরোচ সম্ভবত সরীসৃপের খাবার হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল, কারণ এগুলো বড় হওয়ায় কম সংখ্যক পোকা দিয়েই কাজ চলত। তবে কর্তৃপক্ষ পোষা প্রাণীর মালিকদের ঝিঁঝিঁপোকা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে।
দুই প্রজাতির এ পোকা অস্ট্রেলিয়ায় আমদানি, পালন বা বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এগুলো যেভাবেই সংগ্রহ করা হোক না কেন, রাখা বা প্রজনন করা আইনত নিষিদ্ধ বলে জানিয়েছে দপ্তর।
অস্ট্রেলিয়ায় কৃষি ও বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য কঠোর বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা রয়েছে। অবৈধ প্রাণী বা পোকামাকড় দেশে আনা বা রাখলে হাজার হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব বিদেশী তেলাপোকা পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়নের আওতায় পড়েনি এবং এগুলো রোগ ছড়াতে বা স্থানীয় বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করতে পারে।