ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি।। ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুরু হয়েছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে চলতি মাসেই ‘চেইন রিয়েকশন’ বা নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এই জন্য প্রতিষ্ঠিত চুল্লির নিরাপত্তা, সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং জাতীয় গ্রিডের প্রস্তুতি নিয়ে শেষ মুহূর্তের পরীক্ষা-নিরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে এই প্রকল্প থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্বে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সরকার জোরদার করেছে।
গত সোমবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের পর দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে পারমাণবিক শক্তি। তবে এ ধরনের উচ্চপ্রযুক্তির বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্মার্ট গ্রিডভিত্তিক আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ হাজার ২শ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটে গত এপ্রিলের শেষ দিকে পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন শুরু হয়।
গত ১২ মে’২৬ চুল্লিতে ১শ ৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে চূড়ান্ত ধাপের বিভিন্ন পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান বলেছেম, চেইন রিয়েকশন শুরু হওয়ার আগে দুই সপ্তাহ ব্যাপী নিবিড় নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও কারিগরি পরীক্ষা চালানো হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি মাসেই চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হবে। এটিই হবে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। চেইন রিয়েকশনের পর ধীরে ধীরে তাপ উৎপাদন শুরু হবে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষা শেষে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হওয়াতে যেমন নিকটবর্তী অঞ্চলের কিছু মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবার অনেক মানুষ আতংকের মধ্যে রয়েছেন। চেরনোবিলের দূর্ঘটনায় এই আশংকা সৃষ্টির কারণ হয়েছে। তারপরেও দেশবাসী এই প্রকল্প চালু দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।
আমার বাঙলা/আরএ