২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। রোববার (১৪ জুন) ভোর চারটায় গ্রুপ ‘সি’র ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হবে দলটি। নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটিতে স্পষ্ট ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামছে সেলেসাওরা।
পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, ম্যাচটি জয়ের সম্ভাবনা ব্রাজিলের ৫৮.৬ শতাংশ। ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২৩.৫ শতাংশ, আর মরক্কোর জয়ের সম্ভাবনা ১৮.৮ শতাংশ।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্রাজিলের মতো সফল দল আর নেই। ১৯৩০ সালে টুর্নামেন্টের সূচনার পর থেকে প্রতিটি আসরে অংশ নেওয়া একমাত্র দেশ তারা। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবার ষষ্ঠ শিরোপার লক্ষ্যে মাঠে নামছে।
তবে শেষবার ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৪ বছর। ফলে এবারও ব্যর্থ হলে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।
আনচেলত্তির নতুন ইতিহাসের হাতছানি
এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ডাগআউটে রয়েছেন কিংবদন্তি ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি ব্রাজিলের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া বিশ্বকাপ ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ; দুই শিরোপা জয়ী কোচদের বিশেষ তালিকায় নাম লেখানোর সুযোগও রয়েছে তার সামনে। এর আগে কেবল মার্সেলো লিপ্পি ও ভিসেন্তে দেল বস্কে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। আনচেলত্তির অন্যতম লক্ষ্য হবে ১৯৮২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে নিজেদের গ্রুপের শীর্ষে থাকার ব্রাজিলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
রাফিনিয়ার দিকে তাকিয়ে ব্রাজিল
চার বছর আগে ক্রোয়েশিয়ার কাছে কোয়ার্টার-ফাইনালে বিদায় নেয়া ব্রাজিল এবার নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। সেই আসরে গোল না করেও সবচেয়ে বেশি শট অন টার্গেটে রাখা খেলোয়াড় ছিলেন রাফিনিয়া। এবার দারুণ ফর্মে রয়েছেন বার্সেলোনা তারকা। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিলের হয়ে তিনি করেছেন ৫ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট। এছাড়া ২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৩ ম্যাচে ২১ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
যদিও প্রস্তুতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ ও মিশরকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল, তবুও বাছাইপর্বে তাদের পারফরম্যান্স খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে তারা পঞ্চম স্থান নিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে, যা গত তিন দশকের মধ্যে তাদের সবচেয়ে খারাপ বাছাই ফলাফল।
আত্মবিশ্বাসী মরক্কো
অন্যদিকে মরক্কোও আর আগের দল নয়। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিল আফ্রিকার এই দেশ। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে নিজেদের সবগুলো ম্যাচ জয় করেছে তারা। দলটির অন্যতম ভরসা অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ ও আইয়ুব এল কাবি। ২০২৫ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে মরক্কোর করা ৯ গোলের মধ্যে ৮টিতেই অবদান ছিল দিয়াজ ও এল কাবির।
এছাড়া নজর থাকবে মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারির দিকে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে পিএসভির হয়ে তিনি ১৯ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট করেছেন। তার পারফরম্যান্স ইতোমধ্যে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর কেড়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচে মাদাগাস্কারকে ৪-০ গোলে হারানোর ম্যাচে জোড়া গোল করেন সাইবারি। এরপর নিউইয়র্কে নরওয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে মরক্কো।
ইনজুরি চিন্তা দুই দলের
মরক্কো শিবিরে ইনজুরি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আব্দে এজ্জালজুলি চোটের কারণে পুরো বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন। নায়েফ আগুয়ের্দও ইনজুরির কারণে দলে নেই। এছাড়া নুসাইর মাজরাউইয়ের খেলা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।
ব্রাজিলের পক্ষেও সুখবর নেই। তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার কাফ ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার পথে থাকলেও মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামার মতো ফিট নন। ডানপ্রান্তের ডিফেন্ডার ওয়েসলিও চোটের কারণে ম্যাচটি মিস করতে পারেন।
মুখোমুখি পরিসংখ্যান
বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও মরক্কোর এটি হবে দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। এর আগে ১৯৯৮ সালের গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেই ম্যাচেই বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেছিলেন ব্রাজিল কিংবদন্তি রোনালদো ও রিভালদো। তবে সর্বশেষ দেখায় ২০২৩ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল মরক্কো।
বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলের বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ডও দুর্দান্ত। আট ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই জয় পেয়েছে তারা। একমাত্র ব্যতিক্রম ২০২২ সালে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ১-০ গোলের হার।
সম্ভাব্য ফলাফল
অপটার ২৫ হাজার সিমুলেশনের ভিত্তিতে ব্রাজিলই ম্যাচের স্পষ্ট ফেবারিট। তবে মরক্কোর সাম্প্রতিক উত্থান এবং শক্তিশালী স্কোয়াড বিবেচনায় ম্যাচটি যে সহজ হবে না, তা বলাই যায়। গ্রুপের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত এই ম্যাচে জয় পেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে বড় সুবিধা পাবে যে কোনো দলই।
সালাউদ্দিন/সাএ