শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’-এ ভূষিত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এস. এ. এম. জিয়াউল ইসলাম।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৪টায় ঢাকার সেগুনবাগিচায় কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচা মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলোকিত মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ ঝংকার শিল্পীগোষ্ঠীর যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভা, গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নজরুলসংগীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা, জাসদের সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহীদুল হারুন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরে বাংলার দৌহিত্র, সাবেক তথ্য সচিব ও আলোকিত মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ।
আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের দেশপ্রেম, সাম্যবাদী আদর্শ ও কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বার্তা দেন। একইসঙ্গে জাতীয় কবির স্মৃতিকে ধারণ করে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান একটি ইতিবাচক উদ্যোগ বলেও উল্লেখ করেন তারা।
ফাউন্ডেশনের মহাসচিব এম. এইচ. আরমান চৌধুরী বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল ও উৎসাহিত করবে।
পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করে এস. এ. এম. জিয়াউল ইসলাম বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মান ও গর্বের বিষয়। আমাদের জাতীয় কবির স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত এমন একটি সম্মাননা আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। পুরস্কার মানে কর্মের স্বীকৃতি, আর এই স্বীকৃতি আমাকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলতা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে উৎসাহ জোগাবে। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই অর্জন বা স্বীকৃতি শুধু আমার ব্যক্তিগত নয়, এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও শিক্ষা ও গবেষণায় আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে দেশের জ্ঞানচর্চা ও মানবকল্যাণে অবদান রাখতে চাই।
উল্লেখ্য, এস. এ. এম. জিয়াউল ইসলাম ২০২২-২৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। গবেষক হিসেবে তিনি সেজ (SAGE), স্প্রিঞ্জার (Springer) ও এশিয়ান প্রোফাইলের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নালে একাধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া তিনি তিনটি গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক, ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া কমিটির সদস্য, দুইবার সহকারী প্রক্টর এবং বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।