প্রতীকী ছবি
বহুজাতিক সংস্থায় বছরে ১৫ লাখ রুপির বেতনের চাকরি পেয়েছেন ছেলে। বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে যেকোনো তরুণের জন্যই এটি এক উদযাপনের উপলক্ষ। কিন্তু এই সাফল্যে খুশি হওয়া তো দূরের কথা, উল্টো ছেলের ওপর চটেছেন বাবা। তার সাফ কথা, ‘সরকারি চাকরিই একমাত্র আসল চাকরি।’
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক উদ্যোক্তার শেয়ার করা এমন একটি ঘটনা ভারতজুড়ে চাকরিপ্রার্থীদের নিরাপত্তা, ক্যারিয়ারের পছন্দ এবং অভিভাবকদের প্রত্যাশা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করেছেন অঙ্কিত কেডিয়া নামের এক ভারতীয় উদ্যোক্তা। তিনি তার এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অঙ্কিত লিখেছেন, এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়েছিলাম, যার ছেলে সম্প্রতি একটি বহুজাতিক সংস্থায় বছরে ১৫ লাখ রুপি বেতনের প্যাকেজে চাকরি পেয়েছে। কিন্তু এই বড় অর্জন উদযাপন করার বদলে তার বাবা তাকে সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বাধ্য করছেন।
ছেলের এত বড় অঙ্কের বেতনের অফারও কেন বাবার মন গলাতে পারল না? তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অঙ্কিত কেডিয়া। তিনি জানান, ওই অভিভাবক মূলত বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাম্প্রতিক কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর দেখে প্রভাবিত হয়েছেন।
অঙ্কিত আরও লিখেন, ভদ্রলোক মূলত অ্যাডোবি এবং মাইক্রোসফটের মতো বড় বড় কোম্পানিতে কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর দেখেছেন। আর তা থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বেসরকারি খাতে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। তার কাছে সরকারি চাকরি ছাড়া বাকি সবকিছুই অনিরাপদ।
পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার হওয়ার পরপরই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই পোস্ট নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বহু ব্যবহারকারী বাবার এই উদ্বেগের সঙ্গে একমত হয়েছেন।
তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দার বাজারে সরকারি চাকরির স্থায়িত্ব, কাজের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি কোনোভাবেই ফেলে দেওয়ার মতো নয়।
অন্যদিকে নেটিজেনদের একটি বড় অংশ এর বিরোধিতা করে যুক্তি দিয়েছেন। বেসরকারি খাত তরুণদের দ্রুত ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়া, বিশ্বমানের কাজের অভিজ্ঞতা এবং প্রতিযোগিতামূলক বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে অনন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়।
সূত্র : এনডিটিভি