যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চুক্তিটি ইলেকট্রনিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী শুক্রবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের নতুন আশা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি জি-৭ সম্মেলনেও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে এবং বিশ্বনেতারা এ অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ইরানি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের পর তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ও দুটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথে স্বাভাবিকতা ফিরতে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে সমঝোতা সত্ত্বেও অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে শান্তি চুক্তির পর দক্ষিণ লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষজন নিজেদের বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে ওই এলাকায় এখনো ইসরাইলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে বিচ্ছিন্ন গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দক্ষিণ লেবাননসহ সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা।