গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দেশের সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেশন ও অন্যান্য দপ্তর-সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ ঘোষণা করা হয়েছে, যা আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বাজেটে পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়ায় সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা- কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ। গতকাল ১৫ই জুন ২০২৬ইং সোমবার বিকেলে প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি মো: নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হওয়া সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা। তারা বলেন, বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা নিঃসন্দেহে একটি সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত নতুন পে-স্কেল প্রবর্তনের অঙ্গীকার করেছিল। আমরা আনন্দের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সরকার সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হয়েছে। এর ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে এবং তাদের কর্মোদ্যম ও কর্মস্পৃহা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণে জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিএনপির রাজনৈতিক ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় অবদান রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়িত হয়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের আমলে ১৯৯১ সালে চতুর্থ জাতীয় বেতন স্কেল এবং ২০০৫ সালে ষষ্ঠ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর করা হয়।তবে দুঃখজনকভাবে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অর্জন সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল সুবিধা বাতিল করে দেয়। আমরা আশা করি, জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পুনর্বহাল করা হবে, যা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলন পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে গণপূর্ত মাঠে সারাদেশের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশ এবং জাতীয় প্রেসক্লাবে বিভিন্ন সময় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলন। এছাড়াও বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই সফল পরিণতি আজকের এই জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা।এ জন্য আমরা সমগ্র বাংলাদেশের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কুশল/সাএ