আকাশী-সাদা জার্সি, পতাকার ঢেউ, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ বহর আর “আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টিনা” স্লোগানে মঙ্গলবার বিকেলে যেন বদলে গিয়েছিল গাইবান্ধা শহরের চেনা রূপ। কয়েক ঘণ্টার জন্য পুরো শহর পরিণত হয়েছিল এক টুকরো আর্জেন্টিনায়।
বিশ্বকাপজয়ী দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা ও ফুটবলের প্রতি আবেগ প্রকাশ করতে হাজারো সমর্থকের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এক বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল ও আনন্দ শোভাযাত্রা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে গাইবান্ধা ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীরা এতে অংশ নেন। তরুণ, কিশোর, যুবক থেকে শুরু করে প্রবীণরাও প্রিয় দলের পতাকা হাতে যোগ দেন এই মিলনমেলায়। শুরু থেকেই পুরো এলাকায় উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ে।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের গায়ে ছিল আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী আকাশী-সাদা জার্সি। কারও হাতে আর্জেন্টিনার পতাকা, কারও হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। শত শত মোটরসাইকেলের সামনে উড়ছিল বিশাল আকৃতির পতাকা। কেউ দিচ্ছিলেন প্রিয় দলের স্লোগান, কেউ আবার বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের আশাবাদের কথা জানাচ্ছিলেন। পুরো শহরজুড়ে তখন শুধুই ফুটবল আর ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস।
ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি শহরের ডিবি রোড, স্টেশন রোড, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, নতুন বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ ব্যতিক্রমী এই আয়োজন উপভোগ করেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ধরে রাখেন।
শিশু-কিশোরদের মাঝেও ছিল চোখে পড়ার মতো উচ্ছ্বাস। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেককে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে শোভাযাত্রা দেখতে দেখা যায়। আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রঙিন হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।
আর্জেন্টিনা সমর্থক মো. রাকিব হাসান বলেন, “আর্জেন্টিনা আমাদের কাছে শুধু একটি ফুটবল দল নয়, এটি আবেগের নাম। ছোটবেলা থেকেই এই দলকে সমর্থন করে আসছি। আজকের শোভাযাত্রা প্রমাণ করে গাইবান্ধায় আর্জেন্টিনার সমর্থক কতটা শক্তিশালী। আমরা বিশ্বাস করি, আগামী বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করবে।”
আরেক সমর্থক মো. সোহেল রানা বলেন, “ফুটবল মানুষকে একত্রিত করে। আজকের আয়োজন তার বড় উদাহরণ। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ শুধুমাত্র ফুটবলের ভালোবাসায় এখানে এসেছে। এমন আয়োজন তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করে।”
আয়োজকরা জানান, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবলপ্রেমীদের এক প্ল্যাটফর্মে আনা, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, শুধুমাত্র ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শোভাযাত্রা শেষে ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বসে সমর্থকদের মিলনমেলা। সেখানে একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, স্মৃতিচারণ এবং ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন অংশগ্রহণকারীরা। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল শৃঙ্খলা, আনন্দ আর ফুটবলের প্রতি নিখাদ ভালোবাসার প্রকাশ।
হাজারো মানুষের উপস্থিতি, শত শত মোটরসাইকেলের বহর, আকাশী-সাদা পতাকার সমুদ্র আর মেসি-ভক্তদের প্রাণখোলা উল্লাসে গাইবান্ধার এই শোভাযাত্রা পরিণত হয় সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ ফুটবল উৎসবে। কয়েক ঘণ্টার জন্য যেন ফুটবলের জোয়ারে ভেসে যায় পুরো শহর, আর আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে একটাই নামে—আর্জেন্টিনা।
রোহান/সা.এ.