মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুন, উপজেলা প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুশিয়া আক্তার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, বিআরডিবি কর্মকর্তা শিরিন আক্তার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলী নুর, উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা ইউসিসিএ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আউলাদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা।
মতবিনিময় সভায় প্রস্তাবিত উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে জমিসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।
জানা গেছে, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের জন্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এ প্রকল্পের জন্য টপোগ্রাফিক সার্ভে, মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং সয়েল টেস্টসহ প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে। তবে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিআরডিবি কর্তৃপক্ষের দাবি, ভবন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জমিটি তাদের আওতাধীন ইউসিসিএ’র নামে বরাদ্দকৃত। ফলে সেখানে বিদ্যমান স্থাপনা অপসারণের আগে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন।
অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনের দাবি, ১৯৭৮ সালের ১৩ জুলাই জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইউসিসিএ’র নামে জমিটি ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও শর্ত ছিল জমির মালিকানা হস্তান্তর করা যাবে না এবং নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু ইউসিসিএ এখন পর্যন্ত কোনো ভাড়া পরিশোধ করেনি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জমি এখনো উপজেলা পরিষদের নামেই রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।
সভায় বক্তারা দ্রুত এ জটিলতার সমাধান করে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।