তারকাখ্যাতি, আলোঝলমলে জীবন আর সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে থাকে তুমুল ত্যাগ ও নিরন্তর পরিশ্রম। সেই বাস্তবতারই এক ভয়াবহ ও তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা এবার প্রকাশ্যে এনেছেন হলিউড সুপারস্টার জেনিফার লোপেজ। টানা ৯৮ দিন কোনো ধরনের ছুটি ছাড়াই অবিরাম কাজ করার পর অতিরিক্ত শারীরিক চাপ ও তীব্র মানসিক ক্লান্তিতে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি, যার জেরে একপর্যায়ে তাকে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল।
৫৬ বছর বয়সী এই বিশ্বখ্যাত তারকা জানান, তার জনপ্রিয় সিনেমা ‘এনাফ’-এর শুটিং চলাকালে তিনি একসঙ্গে চারটি চলচ্চিত্র এবং তার বহুল আলোচিত ‘জেএলও’ অ্যালবামের কাজ করছিলেন। সে সময় দিনের দীর্ঘ একটা অংশ শুটিং সেটে কাটানোর পর রাতভর স্টুডিওতে চলত গান রেকর্ডিংয়ের কাজ। এমনকি সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতেও বিশ্রামের সুযোগ ছিল না, তখন চলত মিউজিক ভিডিওর শুটিং। এভাবে টানা ৯৮ দিন অনিয়মিত ঘুম আর বিশ্রামের মধ্য দিয়ে কাজ করার পর একদিন শুটিং সেটেই হঠাৎ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। জেনিফার জানান, হঠাৎ করেই তার বুকে তীব্র অস্বস্তি শুরু হয়, চোখে ঝাপসা দেখতে থাকেন এবং একপর্যায়ে পুরো শরীর অবশ হয়ে আসে। এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন যে নিজের শরীর নড়াচড়া করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তার ব্যক্তিগত সহকারী দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং তীব্র মানসিক ক্লান্তির (নার্ভাস ব্রেকডাউন) কারণেই তার শরীরে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। একটি পডকাস্টে জেনিফার লোপেজ আরও খোলসা করেন যে, ‘সেলেনা’ সিনেমাটি মুক্তির পর তার জনপ্রিয়তা যখন আকাশচুম্বী হতে শুরু করে, ঠিক তখন থেকেই তিনি মূলত ‘প্যানিক অ্যাটাক’-এর মতো মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হন। একবার উন্মত্ত ভক্তদের ভিড়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার পর তীব্র অস্বস্তি ও আতঙ্কে ভুগেছিলেন তিনি। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর থেকেই জেনিফার নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে সম্পূর্ণ আড়ালে রাখার চেষ্টা করেন এবং অতিরিক্ত জনসমাগম ও পাপারাজ্জিদের এড়াতে এখন বেশিরভাগ সময় ঘরের চার দেয়ালের মাঝেই কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।