রবিবার , ২১ জুন ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. তথ্য-প্রযুক্তি
  7. প্রবাস
  8. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  9. বিনোদন
  10. মতামত
  11. লাইফস্টাইল
  12. শিক্ষা
  13. সর্বশেষ
  14. সারাদেশ
  15. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

একটি পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতির অনুসরণ

ঢাকা ইনফো২৪
জুন ২১, ২০২৬ ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্বাধীনতার ঘোষক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মতোই জাতীয় স্বার্থ ও দ্বিপাক্ষিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে বিদেশ সফর শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর এই ক্ষেত্রে তিনি জাতীয় স্বার্থকে প্রধান্য দিয়েছেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বিদেশ সফর মালয়েশিয়া ও চীন দিয়ে শুরু করার মাধ্যমে এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছেন। আর এইক্ষেত্রে তিনি দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে কোনো বাহ্যিক চাপ বা প্রত্যাশার কাছে নতজানু হননি।

স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক সরকারি সফরে মালয়েশিয়া গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে রোববার (২১ জুন) বিকেল পৌনে তিনটায় প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্য যাত্রা শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সফরে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন। মালয়েশিয়া ও চীনের এই ছয়দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফরে তিনি ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করবেন এবং ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফর করবেন। সফর শেষে ২৬ জুন তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে। নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২ আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট পায় ৭৭টি আসন। নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। সরকার গঠনের পর থেকেই আলোচনায় উঠে আসে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোন দেশে হবে, ভারত না চীন। এ নিয়ে কূটনীতি পাড়ায় নানা ধরনের আলোচনা চলতে থাকে। অবশেষে সকল আলোচনার অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমান তার প্রথম সরকারী বিদেশ সফর হিসেবে মুসলিম দেশ মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন।

বাংলাদেশের শ্রমবাজারে মধ্যপ্রচ্যের পরে মালয়েশিয়ার অবস্থান। এছাড়াও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর অন্যতম মুসলিম দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। যদিও স্বাধীনতা পরবর্তী শাসনে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক অতটা গভীর ছিল না। জিয়াউর রহমানের আমলে এই দুই মুসলিম দেশের সম্পর্ক দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতায় রূপ নেয়। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির কারণেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের মধ্যে দিয়ে তিনি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর সেটা হলো দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের কোন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর ভারত চীন কিংবা সৌদি আরবের পরিবর্তে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। এই সফরের মাধ্যমে তিনি এক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে কখন কোন দেশ সফর করবে, তা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ ও দ্বিপাক্ষিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে। এইক্ষেত্রে তিনি বাবা জিয়াউর রহমান এবং মা খালেদা জিয়ার মতো দেশের স্বার্থকে প্রধান্য দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশ এখন থেকে বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নিজস্বভাবে নেবে এবং কোন দেশ কখন সফর করা হবে, তা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ ও দ্বিপাক্ষিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে। জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে সফট পাওয়ার শক্তি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, সরকার এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে বাস্তব প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, কোনো বাহ্যিক চাপ বা প্রত্যাশার কারণে নয়। আমরা কোন দেশে যাব, তা নির্ধারণ করব তখনই, যখন আমরা মনে করব সেখানে যাওয়া প্রয়োজন— দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বিদেশ সফর করেছিলেন ভারত। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে কখনো চীন সফর করেননি। অন্যদিকে ১৯৭৭ সালের ২ জানুয়ারী চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জিয়াউর রহমান প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে চীন সফর করেন। অন্যদিকে ১৯৮২ সালে ৬ অক্টোবর জেনারেল এরশাদ ভারত সফর করেন। যদিও তার প্রথম সফর ছিল একই বছরের ১৪ জুন সৌদি আরব। তবে ভারত সফরের পর তিনি ১৯৮২ সালের ২৬ নভেম্বর ৬ দিনের সরকারী সফরে চীন গিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতি এরশাদ তার আট বছরের শাসন আমলে ৫ বার চীন সফর করেছেন।

সরকার প্রধান হিসাবে খালেদা জিয়াও তিনবার চীন সফর করেছেন। এরশাদের সাথে চীনের ভালো সম্পর্কের কারণে শুরুতেই চীন যাননি খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সালে সরকারের দায়িত্ব নিলেও ক্ষমতার শেষ দিকে ১৯৯৫ সালে চীন সফরে যান তিনি। তবে ২০০১ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে শুরুতেই চীন সফর করেন তিনি। ওই মেয়াদে আরেকবার চীন সফর করেছেন তিনি। ক্ষমতা হারানোর পর ২০১২ সালেও চীনে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়েছেন খালেদা জিয়া। অন্যদিকে ভারতের সাথে ‘পিরিত’ থাকলেও শেখ হাসিনাও তার শাষন আমলে প্রায় প্রত্যেকবার চীনে সফর করেছেন। যদিও অতিমাত্রায় ভারত প্রীতির কারণে শেখ হাসিনা চীন সফর খুব একটা ফলপ্রসু হয়নি। ফলে বাংলাদেশের সরকার প্রধানরা ঐতিহাসিকভাবেই চীনকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। উন্নয়ন সহযোগী হিসাবে চীনও বাংলাদেশকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীন সফরেও এই ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন। তারেক রহমানও একই ধারাবাহিকতায় চীনের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করছেন। প্রথম বড় দেশ হিসাবে দ্বিপাক্ষিক সফরে তিনি চীনকেই বেছে নিয়েছেন।

জানা গেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকলসহ ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ সময় বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে। সরকারি সফরের অংশ হিসেবে তিনি ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। চীন সফরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, সংযোগ এবং উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।

লেখক: হেড অব নিউজ, দৈনিক সারাবাংলা ও সারাবাংলা ডটনেট

ঢাকা ইনফো২৪

ঢাকা ইনফো২৪ (DhakaInfo24) একটি বাংলাদেশভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে সর্বশেষ ব্রেকিং নিউজ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং লাইফস্টাইল বিষয়ক আপডেট নিয়মিত প্রকাশ করা হয়।দ্রুত, নির্ভুল এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদানই ঢাকা ইনফো২৪-এর মূল লক্ষ্য। আধুনিক সাংবাদিকতার মান বজায় রেখে পাঠকদের জন্য সর্বশেষ খবর সহজ ও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

📰 ঢাকা ইনফো২৪

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, প্রবাসীদের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

আরও পড়ুন