
সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটার।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গোল বন্যায় ভাসলেও, আক্রমণে কিন্তু আধিপত্য করেছে সুইডেনই। দলের একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে পারাকে নিজেদের জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন গ্রাহাম পটার। এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান সুইডেনের কোচ।
তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা সুইডেন শনিবার একই ব্যবধানে হারে ডাচদের বিপক্ষে। ম্যাচের প্রথম ১৭ মিনিটে জোড়া গোল করেন ব্রায়ান ব্রবি। দ্বিতীয়ার্ধে কোডি গাকপোর আরও দুই গোল এবং শেষদিকে সামারভিলের গোলে দাপুটে জয় তুলে নেয় নেদারল্যান্ডস। সুইডেনের একমাত্র গোলটি করেন কমান এলাঙ্গা।
বড় জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা সুইডেন এদিন মাঠে নামে ফুরফুরে মেজাজে। কিন্তু সহজেই বলের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং ডাচদের আটকে রাখতে না পারার খেসারত দিতে হয় তাদের। প্রথম পানি পানের বিরতির পর অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায় তারা। বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি করে।
সবমিলিয়ে, ম্যাচ গোলের উদ্দেশ্যে মোট ১৬ শট নেয় সুইডেন, যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল আটটি। সেখানে ১০ শটের সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে নেদারল্যান্ডস। ম্যাচ শেষে দলের বাজে শুরুর দিকে আঙুল তোলেন পটার,‘ আমরা নিশ্চিতভাবেই ভালো দলের বিপক্ষে হেরেছি। ব্যবধানটা আমাদের জন্য কিছুটা নিষ্ঠুর হতে পারে, তবে ফুটবলে মাঝেমধ্যেই এমনটা হয়, বিশেষ করে যখন এমন উচ্চমানের প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে।’
“আমরা ভালো শুরু করতে পারিনি, যা আমাদের ম্যাচে পিছিয়ে দেয় এবং দলের মানসিকতায় প্রভাব ফেলে। প্রথম বিরতির পর, আমার মনে হয়, আমরা ভালো করেছি। কৌশলে কিছুটা বদল এনেছি, যা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।”
দুই ম্যাচ শেষে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষে নেদারল্যান্ডস। তাদের সমান পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে জাপান। আর সুইডেনের পয়েন্ট ৩।
নকআউট পর্বে যাওয়ার আশা টিকিয়ে রাখতে জাপানের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচটি সুইডেনের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ। পটার মনে করেন, এই অভিযানে সফল হতে হলে সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ডাচদের মতোই নিখুঁত হতে হবে তাদের।
তিনি বলেন,‘ আমার মনে হয়, আমরা বেশ ভালো কিছু সুযোগ তৈরি করেছি, কিছু শটও নিয়েছি। কিন্তু তারা সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে নিখুঁত ছিল। ওদের ফিনিশিং ছিল দুর্দান্ত, যেখানে আমাদের কিছুটা ঘাটতি ছিল; ফুটবলে এমনটা হতেই পারে।’
আর এই ম্যাচ থেকে ইতিবাচক দিকগুলো ধরে রাখতে চান পটার। একই সঙ্গে রক্ষণে আরও উন্নতির তাগিদ দিলেন তিনি,‘ আমরা ইতিবাচক দিকগুলো আঁকড়ে ধরব, প্রতি ম্যাচেই কিছু না কিছু ইতিবাচক দিক থাকবেই। তবে একই সঙ্গে, রক্ষণে আগের চেয়ে আরও ভালো করা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।”
আগামী শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোরে জাপানের মুখোমুখি হবে সুইডেন।