এ-কুল ভাঙে ও-কুল ঘরে এইতো নদীর খেলা- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই গানের মতো শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোগাই নদীর এ-কূল ভেঙে ও-কূল গড়েছে। থেকে থেকে জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ চর।
আর সেই চর থেকেই ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে মরিয়া স্থানীয় কৃষকেরা। ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ভেসে উঠা চরে শাকসবজি চাষ করেছেন তারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যতদূর চোখ যায় সবুজ আর সবুজ। দেশি ও হাইব্রিড জাতের শাকসবজি চাষে ভোগাইয়ের চরে এই সবুজের সমারোহ। উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ভোগাই নদীর পাড় ভেঙে প্রতিবছরই ভূমিহীন হন অনেক কৃষক, হারিয়ে ফেলেন চাষযোগ্য জমিটুকু। এমতাবস্থায় দুর্ভোগ নেমে আসে তীরবর্তী বাসিন্দাদের। সেই দুর্ভোগ থেকে উত্তরণের জন্য এই নদীর চরেই শাকসবজি চাষ করে নতুন স্বপ্ন বুনেন কৃষকেরা। চর থেকে ঢলের পানি নেমে যাওয়ার পর পলিমাটি পড়ে উর্বর হওয়াই কম খরচেই বেশি ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রবি মৌসুমে শাকসবজি চাষের ফলে সবুজ অরণ্যে ছেয়ে যায় ভোগাইয়ের চর।
নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নের ভোগাই নদীর তীরবর্তী দক্ষিণ কোন্নগর, ফকিরপাড়া ও বেনীরগোপ এবং নকলা উপজেলার উরফা, বেনীরগোপ, পিছলাকুড়ি ও তারাকান্দা এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ভোগাইয়ের জেগে উঠা চরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ করেছেন কৃষকেরা। ভালো ফলনের পাশাপাশি চলতি মৌসুমে রমজান থাকায় কাঙ্ক্ষিত দরে বিক্রি হচ্ছে এসব ফসল।
কৃষকরা জানায়, সীমিত-চাষ বা চাষ ছাড়াই আলু, পেঁয়াজ, রসুন, বেগুন, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, মুলা, গাজর, শসা লাউ, কাঁচামরিচ, কুমড়া, ডাটা শাক, মুলা শাক, কলমী শাক, লাউ শাক, পালং শাকসহ বিভিন্ন শাকসবজি চরে চাষ করেছেন তারা। ইতিমধ্যে কিছু ফসল উঠতে শুরু করেছে। আশানুরূপ ফলনের পাশাপাশি দামও পাচ্ছেন ভালো। উজান থেকে ভাটি পর্যন্ত কয়েকশ কৃষক ভোগাইয়ের চরে চাষ করেছেন রবি মৌসুমের নানা জাতের শাকসবজি। কেউ বাণিজ্যিক কেউবা পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটাতেই এসব ফসল চাষে ঝুঁকেছেন।
নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের দেয়া তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে ১০৮০ হেক্টর ফসলি জমিতে শাকসবজি চাষ করা হয়েছে। এই উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রাও ছিল ১০৮০ হেক্টর।
কোন্নগর গ্রামের কৃষক আব্দুল আলীম বলেন, এবছর নদীর চরে যেসব সবজি চাষ করেছি এগুলোর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। বেনীরগোপ গ্রামের কৃষক ফরিদ মিয়া বলেন, ভোগাইয়ের চরে বিভিন্ন সবজি চাষ করেছি ফলন ভালো হয়েছে পাশাপাশি দামটাও মানানসই আছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মশিউর রহমান দৈনিক জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, ‘শাকসবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করছে কৃষি অফিস। এছাড়াও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের নানাধরণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।’
