ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবে নরওয়ে

X
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের (এনএফএফ) সভাপতি লিস ক্লাভেনেস এবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ বলে স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
দ্য টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লাভেনেস বলেন, তিনি এনএফএফের বোর্ডে বালোগুনের কার্ড ও পরে নিষেধাজ্ঞা বাতিলের বিষয়টি তুলবেন। এছাড়া বালোগুন-সংক্রান্ত ঘটনায় নৈতিকতা (এথিকস) ভঙ্গের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের উদ্যোগ নেবেন।
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হন বালোগুন। কিন্তু ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায় তিনি পরে ঠিকই বেলজিয়ামের বিপক্ষে রাউন্ড অব ১৬-র ম্যাচে খেলতে পারেন।
এই সিদ্ধান্তের আগে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যে ফোনালাপ হয়েছিল। পরে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, ফিফা “দারুণ একটি সিদ্ধান্ত” নিয়েছে। যদিও ইনফান্তিনো বরাবরই দাবি করে আসছেন, ফিফার বিচারিক সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবেই কাজ করে।
ক্লাভেনেস অবশ্য সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন,‘ আপনি যখন এভাবে নিয়ম বেঁকে দেন, ইচ্ছেমতো বদলে ফেলেন, তখন সেটি খুবই বিপজ্জনক নজির তৈরি করে। এতে পুরো খেলাটাই ঝুঁকির মুখে পড়ে। ফুটবলের মৌলিক নিয়মের সঙ্গে আপস করা হলে সেটি উদ্বেগের বিষয়।”
“প্রথমত, এমন সিদ্ধান্ত হওয়াই উচিত ছিল না। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এ নিয়ে সৎ ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া। আমরা সবাই জানি, এই সিদ্ধান্ত বাইরের প্রভাবের কারণে হয়েছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ফিফার নেতার উচিত এটিকে ভুল বলে স্বীকার করা।”ঝড়পপবৎ
ক্লাভেনেস আরও বলেন, রাষ্ট্রনেতাদের চাপ বা রাজনৈতিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত বদলানো হলে ভবিষ্যতে এমন হস্তক্ষেপের সীমারেখাও বদলে যাবে।
“আপনি যদি রাষ্ট্রনেতাদের ইচ্ছার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে শুরু করেন, তাহলে শুধু নিজের আচরণ নয়, পুরো সংস্থার আচরণও বদলে যাবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রনেতারা কোথায় পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে পারেন, সেই সীমারেখাও সরে যাবে। এই ঘটনায় সেটিই হয়েছে।”’
বিতর্কিত এই সিদ্ধান্ত স্রেফ একজন সদস্যের মাধ্যমে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নরওয়ে ফুটবল প্রধান। ইএসপিএনের তথ্য অনুযায়ী, দ্য টাইমস প্রথম জানায় যে ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল কামালি একাই বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।
ক্লাভেনেসের মতে, ‘যখন বাইরের কোনো প্রভাবশালী পক্ষ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে, তখন অবশ্যই একজনের পরিবর্তে একাধিক ব্যক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তা না হলে সেটি ভুল।’
তিনি মনে করেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে রাখা সম্ভব নয়। কারণ ফুটবলের অনেকেই এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন। এই ঘটনাটি এতটাই গুরুতর যে আমি আশা করি, এটি মানুষকে মুখ খুলতে উৎসাহিত করবে। আমি বিষয়টি বোর্ড সভায় তুলব এবং নৈতিকতা ভঙ্গের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি আলোচনা করব।’
দ্য টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্পকে ফিফা পিস প্রাইজ দেওয়ার ঘটনা ঘিরে যে নৈতিকতা ভঙ্গের অভিযোগ এরই মধ্যে রয়েছে, তার সঙ্গে বালোগুন-ইস্যুটিও যুক্ত করতে চান ক্লাভেনেস।ঝড়পপবৎ
এছাড়া ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে এরই মধ্যে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিতে (আইওসি) অভিযোগ জমা পড়েছে। গত মাসে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনও ফিফার এথিকস কমিটিকে চিঠি দিয়ে ফেয়ারস্কয়ারের করা সেই অভিযোগ বিবেচনার অনুরোধ জানায়।