যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের তুলনায় সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকলেও চলমান যুদ্ধে রাজনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণে ইরান বেশি স্পষ্ট অবস্থানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রস হ্যারিসন, যিনি Middle East Institute-এর সিনিয়র ফেলো।
আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যুদ্ধ জয়ের জন্য শুধু সামরিক শক্তিই যথেষ্ট নয়।” তার মতে, যুদ্ধের ‘রাজনৈতিক শেষ লক্ষ্য’ (পলিটিক্যাল এন্ডগেম) সম্পর্কে ইরানের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি পরিষ্কার।
হ্যারিসন এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রুশিয়ান সামরিক চিন্তাবিদ কার্ল ভন ক্লজভিটজ-এর বিখ্যাত উক্তি তুলে ধরেন—“যুদ্ধ হলো রাজনীতিরই অন্য মাধ্যমে অব্যাহত রূপ।”
তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণভাবে ইরানের লক্ষ্য হচ্ছে নিজেদের টিকে থাকা, ক্ষমতা সংহত করা এবং ভবিষ্যতে পুনর্গঠন করা। অন্যদিকে বাহ্যিকভাবে ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, বরং অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেও আঘাত হেনে ওয়াশিংটনের কৌশলগত সক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
হ্যারিসনের মতে, ইরানের এই কৌশলের একটি উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া। তবে ইরান সেই লক্ষ্য পূরণে বাধা সৃষ্টি করেছে, ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য ছাড়া কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সব মিলিয়ে, সামরিক শক্তির চেয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্য ও কৌশলের দিক থেকে ইরান বর্তমানে এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন এই বিশ্লেষক।
